“লাদেনের বই পড়ত, বোমা তৈরি শিখত”-IT ইঞ্জিনিয়ার জুবেরের সব কীর্তি হয়ে গেল ফাঁস

দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) পুনে থেকে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে। জুবের হাঙ্গারগেকার নামে এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবং তার গোপন ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। অভিযোগ, সে নিজের পেশাগত এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চরমপন্থী ধারণা ছড়াত এবং আল-কায়দা (Al-Qaeda) ও তার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার জন্য সক্রিয়ভাবে নিয়োগের কাজ করত।

কীভাবে চলত নিয়োগ ও প্রচার?

গত ২৭ অক্টোবর জুবের হাঙ্গারগেকারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কাজের জন্য ইউএপিএ (UAPA) আইন লাগু করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী:

  • খিলাফত গ্রুপ: জুবের একাধিক টেলিগ্রাম গ্রুপ চালাত যা সম্পূর্ণরূপে ‘খিলাফত’ ধারণার ওপর নির্ভর করত এবং কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিশ্বাস করত না।

  • প্রোপাগান্ডা: এটিএস জানিয়েছে, জুবের এই গ্রুপগুলির মাধ্যমে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াত। সে বিশ্বাস করত ‘শরিয়া আইন গণতন্ত্রের কথা বলে না’, এবং এই চরমপন্থী ধারণা সে অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিত।

  • গণতন্ত্রে আঘাতের চেষ্টা: জুবের যুবকদের মগজ ধোলাই করে ভারতের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানতে চেয়েছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

ল্যাপটপে ‘জিহাদ’ এবং বোমা তৈরির ম্যানুয়াল:

 

জুবেরের ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করেছে ভারতের DRDO-এর ল্যাবরেটরি। তার ল্যাপটপ বিশ্লেষণ করে যা পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক:

  • আল-কায়দার পাবলিকেশন: আল-কায়দার বিভিন্ন প্রকাশনা।

  • প্রোপাগান্ডা কৌশল: জিহাদের নামে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কিত নথি।

  • বোমা তৈরির কৌশল: বোমা তৈরির ম্যানুয়াল বা কৌশল সংক্রান্ত নির্দেশিকা।

  • লাদেনের বক্তব্য: ওসামা বিন লাদেনের বক্তব্যের উর্দু অনুবাদ।

জানা গেছে, জুবের নিয়মিত এই সমস্ত চরমপন্থী উপাদান পড়ত।

ভাবনার বদল ও সন্দেহের অবকাশ:

 

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সাল থেকে জুবের হায়দরাবাদ এবং পুনের চরমপন্থীদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে। সেখান থেকেই তার ভাবনাচিন্তায় বদল আসে এবং সে ইসলাম চরমপন্থার ওপর লেখা একাধিক বই পড়তে শুরু করে।

জুবেরের কাছে থাকা একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস (প্রায় ১ টিবি ডেটা) বাজেয়াপ্ত ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুনে, সোনাপুর এবং থানেতে জুবায়ের ধর্ম নিয়ে একাধিক ভাষণ দিয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের কারণ।

তবে এটিএস জানিয়েছে, জুবেরের গ্রেপ্তারের পর তার এক সহযোগী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট নষ্ট করে দেয়। ফলে তদন্তে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। পুলিশ আরও তথ্য পেতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।