‘রাজভবন থেকে অস্ত্র বিলি’, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিত্তিহীন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কড়া জবাব রাজ্যপাল ও দিলীপ ঘোষের

রাজভবন থেকে অস্ত্র বিলি করা হচ্ছে বলে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন, তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এবং স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া: ‘দেশের ব্যবস্থা ও সংবিধানকে অপমান’
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তৃণমূল সাংসদের অভিযোগকে দেশের “ব্যবস্থা” এবং “সংবিধান”-কে “অপমান” করার চেষ্টা বলে দাবি করেছেন। রবিবার তিনি বলেন, “দেশের ব্যবস্থা ও সংবিধানকে অপমান করাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিতর্ক তৈরি করে প্রচারের আলোয় আসার জন্য আজেবাজে কথা বলেন।”

রাজ্যপাল বোসের কড়া জবাব: ‘অন্ধকারে কালো বিড়াল খোঁজা’
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তৃণমূল সাংসদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি বলে অভিহিত করে তা উড়িয়ে দিয়েছেন। এক কড়া জবাবে তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর দাবি যাচাই করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।

ANI-কে রাজ্যপাল বোস বলেন, “রাজভবনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ খোঁজা মানে একজন অন্ধ মানুষের অন্ধকারে এমন একটি কালো বিড়াল খোঁজার মতো, যার কোনো অস্তিত্বই নেই।”

স্বচ্ছতার জন্য রাজভবন খুলে দিলেন:

এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে রাজ্যপাল স্বচ্ছতা ও তদন্তের জন্য রাজভবনকে জনসাধারণের জন্য খুলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ ভোর ৫টা থেকে সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সংবাদমাধ্যম রাজভবনে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ আছে কিনা তা দেখতে আসছেন।”

রাজ্যপাল বোস কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, তৃণমূল সাংসদ কি রাজ্য পুলিশের উপর আস্থার অভাব প্রকাশ করছেন, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কথা ফাঁস করছেন। তিনি এই ধরনের অভিযোগের গুরুতর পরিণতির উপর জোর দিয়ে বলেন, এগুলি কলকাতা পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ:
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে রাজ্যপাল বোস “রাজভবনে বিজেপির অপরাধীদের আপ্যায়ন করছেন” এবং রাজ্যে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা করার জন্য তাঁদের অস্ত্র দিচ্ছেন। হুগলির শ্রীরামপুরের এক অনুষ্ঠানে কল্যাণ বলেছিলেন, “বাংলার রাজ্যপালকে বলুন রাজভবনে বিজেপির অপরাধীদের আপ্যায়ন না করতে। তিনি তাদের সেখানে রাখছেন এবং তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা করার জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিচ্ছেন। যতক্ষণ এমন রাজ্যপাল পদে থাকবেন, বাংলায় ভালো কিছু হবে না।”