গর্ভাবস্থায় বাবার মানসিক সমর্থনই ওষুধের চেয়ে কার্যকরী! সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন পরীক্ষা কী প্রমাণ করল?

গর্ভধারণের ৩৭ সপ্তাহের আগে সন্তান প্রসব হলে তাকে ‘অকাল প্রসব’ বলা হয়, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতি বছর এই কারণে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হয় এবং অনেক শিশুকে নানা রোগের সাথে লড়াই করতে হয়। সাধারণত অকাল প্রসব প্রতিরোধের কোনো নির্দিষ্ট উপায় নেই বলে মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এর কারণ সম্পর্কে একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, গর্ভাবস্থায় স্বামীর কাছ থেকে ভালো আচরণ এবং মানসিক সহায়তা অকাল প্রসবের সম্ভাবনা এড়াতে পারে।

গবেষণায় কী জানা গেল?

নিউ ইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুসারে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন, যেখানে ২০০ জনেরও বেশি দম্পতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, গর্ভাবস্থায় একজন সঙ্গীর আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মানবোধ শিশুর সুস্থ ও সময়মতো জন্ম নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দেখা গেছে, যেসব পুরুষ দৃঢ়চেতা ছিলেন এবং উচ্চ আত্মসম্মানবোধ রাখতেন, তাদের সঙ্গীরা গর্ভাবস্থায় কম চাপ অনুভব করেন। এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গর্ভবতী মহিলাদের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (C-Reactive Protein – CRP) এর মাত্রা দেখা হয়, যা শরীরে সংক্রমণের মাত্রা নির্দেশ করে এবং এটি অকাল জন্মের সাথে যুক্ত।

কম চাপ মানে কম প্রদাহ

গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, যেসকল পুরুষের সামাজিক মর্যাদা ভালো ছিল এবং তারা তাদের সঙ্গীর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন, তাদের স্ত্রীদের শারীরিক সমস্যা (যেমন প্রদাহজনক লক্ষণ) কম ছিল। এর ফলে তাদের গর্ভকালীন সময়কাল বেশি ছিল এবং তারা অকাল প্রসবের অভিজ্ঞতা লাভ করেননি।

অন্যদিকে, যেসব মহিলার সঙ্গী ইতিবাচক ছিলেন না, তাদের শরীরে প্রদাহজনক লক্ষণ (Inflammatory Symptoms) বেশি ছিল এবং গর্ভকালীন সময়কাল কম ছিল, যা অকাল জন্মের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছিল।

গবেষকদের মতে, একজন সুস্থ শিশুকে পৃথিবীতে আনার জন্য বাবা-মায়েদের দুজনেরই ইতিবাচক মনোভাব থাকা অত্যন্ত জরুরি। গবেষণার সহ-লেখক জেনিফার হ্যান হলব্রুকের মতে, এটি প্রথম গবেষণাগুলির মধ্যে একটি যা দেখায় যে একজন বাবার আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মনোভাব এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার ক্ষমতা গর্ভের শিশুর উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। স্বামীদের কাছ থেকে ইতিবাচক আবেগ মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই একটি সুস্থ জীবনে অবদান রাখে।