দিল্লি লালকেল্লা বিস্ফোরণ! ১৯৯৩ মুম্বই হামলার চেয়েও বড় নাশকতার ছক, ডাক্তার মডিউলের পরিকল্পনা ফাঁস

দিল্লির লালকেল্লার সামনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) তদন্তে উঠে এসেছে শিহরণ জাগানো তথ্য। তদন্তকারীরা এখন নিশ্চিত, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) ছয়জন চিকিৎসকের একটি দল এমন ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ-চক্রের ছক কষেছিল, যা বাস্তবায়িত হলে ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের (1993 Mumbai Blast) পর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা হতে পারত।
পরিকল্পনা ছিল ১৯৯৩-এর আদলে
তদন্তে জানা গেছে, জঙ্গিদের পরিকল্পনা ছিল ভয়ঙ্কর। তারা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO) ব্যবহার করে ডজন ডজন বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি (Explosive Cars) দেশের বহু শহরে ছড়িয়ে রাখতে চেয়েছিল। শক্তিতে RDX বা TNT-এর তুলনায় দুর্বল হলেও, এই গাড়িভর্তি ‘ফার্টিলাইজার বোম’ – এর সংখ্যা বেশি হলে প্রভাব হতো মারাত্মক। এই বিস্ফোরণের পরিধি এমনই হত যে, হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি অবধারিত ছিল।
এই চক্রের একজন, ডাঃ মহম্মদ উমর নবি, ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে তাঁর গাড়িতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ (Suicide Attack) ঘটিয়ে প্রাণ হারান। তাঁর গাড়িতেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা গেছে, গত দু’ বছরেরও বেশি সময় ধরে পেশাদারদের এই ‘র্যাডিক্যালাইজড মডিউল’ দিল্লি, এনসিআর-সহ একাধিক শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
কাশ্মীর পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের (Jammu Kashmir Police) তৎপরতা না থাকলে ভারতের হয়তো ১৯৯৩-এর ভয়াবহ স্মৃতি ফিরে আসত। অক্টোবরের শেষে শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) প্রশংসাপত্র সম্বলিত পোস্টার থেকে যে সূত্র মিলেছিল, তা ধরেই ফরিদাবাদে প্রায় তিন টন বিস্ফোরক উপাদান বাজেয়াপ্ত করা হয়।
১৯৯৩ সালে মুম্বই পুলিশ টাইগার মেমনের বাড়িতে বিস্ফোরক-ভর্তি গাড়িগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি, যার ফলে ২৫৭টি প্রাণহানি হয়েছিল। কিন্তু এবার হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ১০ নভেম্বরের অভিযানই ছিল একধরনের সৌভাগ্য, যা ভয়াবহ বিপর্যয়কে থামিয়ে দিয়েছে।
১৯৯৩ সালের ছায়া
এনআইএ (NIA) এখন খতিয়ে দেখছে, এই চিকিৎসক-চালিত সন্ত্রাস মডিউলের পিছনে কারা ছিল? জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) কী নির্দেশ দিয়েছিল?
১৯৯৩-এর মুম্বই হামলায় তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসআই (ISI) জড়িত ছিল। আইএসআই প্রধান জাভেদ নাসির এই হামলার তিন ধাপের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন দাউদ ইব্রাহিমের (Dawood Ibrahim) ছত্রছায়ায়। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কে দাউদের দলনেতারা পালিয়ে যাওয়ায় সেই হামলার শেষ দুটি ধাপ থমকে গিয়েছিল।
২০২৫ সালের এই নয়া ষড়যন্ত্রেও ধারাবাহিক ও নিখুঁত বিস্ফোরণের ছাপ দেখেই গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, এর পিছনে ১৯৯৩ সালের মতো কোনো মিলিটারি ধাঁচের পরিকল্পনা বা আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে কিনা। এই বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত মোড় আসতে পারে।