আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়! সুপ্রিম কোর্টে বড় ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

দেশের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত বা বর্জনের ক্ষেত্রে আধার (Aadhaar) ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে এবার বড় ব্যাখ্যা দিল নির্বাচন কমিশন (EC)। কমিশন সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আধারকে কোনো অবস্থাতেই নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। আধার শুধুমাত্র পরিচয় নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম।
কেন এই ব্যাখ্যা?
অ্যাডভোকেট অশ্বিনী উপাধ্যায়ের একটি পিটিশনের জবাবে সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামা জমা দেয় কমিশন। উপাধ্যায়ের দাবি ছিল, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম–৬–এ আধারকে জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা UIDAI-এর ২০২৩ সালের নির্দেশিকার বিরোধী। তাঁর যুক্তি ছিল, আইন অনুযায়ী আধারের ব্যবহার কেবল পরিচয় যাচাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
কমিশন হলফনামায় জানায়, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে— RPA, 1950–এর ২৩(৪) ধারা অনুসারে আধার কেবল পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহারযোগ্য, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নয়। সেই নির্দেশ মেনে কমিশন সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে আধার শুধুই পরিচয়ের মাধ্যম, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নয়।
শুরু হলো বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্যায়
এই ব্যাখ্যার পরই শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্যায়। চলতি দফায় দেশের ৯টি রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, কেরল, গোয়া এবং ছত্তিশগড়) এবং আন্দামান–নিকোবর, লাক্ষাদ্বীপ ও পুদুচেরি মিলিয়ে মোট প্রায় ৫১ কোটি ভোটার এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসছেন। মোট ৩২১টি জেলা এবং ১,৮৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে চলছে এই ব্যাপক উদ্যোগ।
এই পর্যায়ে BLO-রা (Booth Level Officer) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং প্রতিটি পরিবারের কাছে অন্তত তিনবার গিয়ে Enumeration Form দিচ্ছেন, যেখানে ভোটারদের বর্তমান ঠিকানা, বয়স, পারিবারিক তথ্যসহ প্রয়োজনীয় বিবরণ হালনাগাদ করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধার থাকা মানেই ভারতীয় নাগরিক হওয়া নয়— এই বার্তা স্পষ্ট হওয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনে অযাচিত বাদ–পড়া বা বিভ্রান্তি কমবে।