‘ডাক্তার’ উমরের মাস্টারপ্ল্যান? অনলাইনে বোমা শিখে লালকেল্লা কাঁপালো! জঙ্গি হামলার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার সামনে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ একের পর এক দুটি গাড়িতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে ১৩ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
বিস্ফোরণে ব্যবহৃত ভয়ংকর কৌশল
পুলিশ ও এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম গাড়িতে প্রায় ২ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মিশ্রিত অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বিস্ফোরকটি ছিল মূলত এএনএফও (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল), যা কৃষি সারের সঙ্গে ফুয়েল অয়েল মিশিয়ে তৈরি হয়। এটি চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে একাধিক ছোট-বড় বিস্ফোরণ ঘটে। ধ্বংসাবশেষে ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির কাঁচ ও যন্ত্রাংশ।
দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা নিশ্চিত করেছেন, “প্রথম বিস্ফোরণটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়, যার ধাক্কায় আশপাশের আরও তিন-চারটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।” ঘটনাস্থল থেকে ডেটোনেটরের অংশবিশেষ উদ্ধার হওয়ায় এটিকে সুপরিকল্পিত জঙ্গি হামলা বলেই মনে করছে তদন্তকারীরা।
বোমা বিশেষজ্ঞ ‘ডাক্তার’ উমর
এই হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে এসেছে ডা. উমর উন নবী ওরফে উমর মহম্মদ নবী। সে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার লেথপোরা এলাকার বাসিন্দা এবং ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে ডাক্তারি পড়াত ও গবেষণা করত।
সূত্রের খবর, উমর বোমা তৈরির ‘বিশেষজ্ঞ’ ছিল। সে অনলাইন থেকে শিখে সাধারণ উপাদান দিয়ে শক্তিশালী আইইডি (IED) তৈরি করতে পারদর্শী হয়ে উঠেছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, বিস্ফোরিত হুন্ডাই আই২০ গাড়ির চালক ছিল সে নিজেই।
আতঙ্ক নাকি আত্মঘাতী হামলা?
তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ফরিদাবাদে উমরের সহযোগীদের গ্রেফতার এবং ২৯০০ কেজিরও বেশি বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত হওয়ার খবরে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। হয়তো এই কারণেই তাড়াহুড়োয় গাড়িতে বিস্ফোরক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল এবং অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণ ঘটে যায়। তবে কিছু সূত্র বলছে, উমরের পরিকল্পনা ছিল এটি একটি আত্মঘাতী হামলা (Suicidal Attack)। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা।