রাজীব গান্ধির শান্তি সেনার সদস্য, বয়স ৮৭, ২৪ সালে ভোট দিলেন, ২৫-এর তালিকা থেকে নাম বাদ প্রাক্তন সেনাকর্মী শশীকান্ত হালদারের

দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এক প্রাক্তন সেনাকর্মী এখন অসহায়। ভারতীয় সেনার মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রায় তিন দশক কাজ করেছেন চুঁচুড়ার কাপাসডাঙার বাসিন্দা শশীকান্ত হালদার (৮৭)। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির নির্দেশে LTTE দমনে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া শান্তি সেনার অংশও ছিলেন। অথচ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দেওয়া এই প্রবীণ নাগরিকের নাম হঠাৎই ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

স্বয়ং বিএলও (BLO) তাঁকে SIR-এর এন্যুমারেশন ফর্ম দিতে এসে এই দুঃসংবাদ জানিয়েছেন। প্রাক্তন সেনাকর্মীর নাম বাদ পড়ায় তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ফর্ম ফিলাপ করতেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ সেখানে পরিবারের কর্তার নাম ও তথ্য লাগবে।

‘কী করে হল জানি না, কী করব বুঝতে পারছি না’
শশীকান্ত হালদার বলেন, “১৯৬৮ সালে ভারতীয় সেনায় যোগ দিয়েছিলাম। রাজীব গান্ধি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শ্রীলঙ্কায়ও ছিলাম। তারপর থেকে সব নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। এখন বিএলও এসে বললেন আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট হয়ে গিয়েছে। কী করে হল জানি না। এই বৃদ্ধ বয়সে, অসুস্থ অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছি না।”

তিনি জানান, পরিবারের ছয়জনের নাম তালিকায় থাকলেও তাঁর নামটি নেই।

পরিবারের প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশনের ভুলের জন্য এত হয়রানি কেন?
শশীকান্ত হালদারের ছেলে বিনয় হালদার পুরো ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভুলের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “বাবা প্রাক্তন কেন্দ্র সরকারি কর্মী, এতো বছর ভোট দিচ্ছেন। বাবার নাম কেন বাদ গিয়েছে? বাবার অসুস্থ শরীর। এই ৮৭ বছর বয়সে আবার ছয় নম্বর ফর্ম ফিলাপ করে নতুন করে নাম তুলতে হবে, হেয়ারিংয়ে যেতে হবে, প্রমাণ দেখাতে হবে। এত ঝামেলা কী করে করব অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে?”

বিনয় হালদার আরও প্রশ্ন তোলেন, “পরিবারের কর্তা যিনি তিনিই এন্যুমারেশন ফর্ম পাননি। ভাবতে অবাক লাগছে। বাবা তো জীবিত, তাহলে নাম বাদ দিল কে? নির্বাচন কমিশনের ভুলে যদি এটা হয়, তাহলে তারাই এটার সঠিক ব্যবস্থা করে দিয়ে যাক।”

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁর বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম নেই, তিনি এন্যুমারেশন ফর্ম পাবেন না। নাম ফেরানোর জন্য উপযুক্ত নথি দেখিয়ে আবেদন করতে হবে।

এই ঘটনায় একদিকে যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক প্রাক্তন সেনাকর্মী, তেমনি প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও।