তিন বছর পর মুক্তির আলো, বেহালাবাসীর কাছে ‘খোলা চিঠি’ লিখলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফাঁস করলেন মনের ক্ষোভ

প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ বন্দিদশা কাটিয়ে অবশেষে মুক্তির আলো দেখেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার জামিনে মুক্ত হয়ে বেহালার বাড়িতে ফিরেই তিনি হাতে তুলে নিলেন কলম। বুধবার ভোরের আলো ফোটার আগেই তাঁর লেখা একটি ‘খোলা চিঠি’ পৌঁছে গেল তাঁরই বেহালা (পশ্চিম) বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছে।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ২৩ জুলাই গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন এই বিধায়ক। চিঠির প্রতিটি শব্দে যেন ধরা পড়েছে দীর্ঘ নিঃসঙ্গতার অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ এবং আত্মসম্মানের দাবি।
‘কাকে ঠকিয়েছি, কার থেকে টাকা নিয়েছি?’
পার্থ চট্টোপাধ্যায় চিঠিতে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন: “বেহালার মানুষ আমাকে পাঁচ বার জিতিয়েছেন। আজ আমি আপনাদেরই কাছে জানতে চাই, আমি কাকে ঠকিয়েছি, কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি? কেউ যদি আমার নামে টাকা নিয়ে থাকে, দয়া করে জানান।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই এক বাক্যে যেন বন্দিদশার অসহায়তা এবং অপবাদে আঘাতপ্রাপ্ত এক রাজনীতিকের মানসিক যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে।
তিনি আরও লেখেন, “আমার সততার ছবিকে যারা নোংরা রাজনীতির কাদায় টানতে চেয়েছে, তাদের ছেড়ে দেওয়া মানে সমাজের প্রতি অন্যায় করা।” তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “কিন্তু আমি লড়াই থামাব না।”
দলের কাছেও প্রশ্ন: ‘কোন ধারায় সাসপেন্ড করা হয়েছিল?’
শুধু জনতার উদ্দেশে নয়, রাজনৈতিক মহলকে অবাক করে দিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মুক্তি পাওয়ার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছে আলাদা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি সরাসরি জানতে চেয়েছেন, “দলের কোন ধারায় আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল?”
চিঠিতে তিনি বেহালার উন্নয়নমূলক কাজগুলিরও সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর বিধায়ক জীবনের ফসল। তিনি লেখেন, “এই কাজগুলো বেহালার মানুষের আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। আজ আমি চাই, সেই মানুষরাই আমার ভাবমূর্তিকে ফের আলোকিত করুন।”
‘আমি আবার আপনাদের পাশে দাঁড়াতে চাই’
দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের পর জনসংযোগের চেষ্টা শুরু করেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বুধবার বেহালার বাড়িতে বসে তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেন। ঘনিষ্ঠদের মতে, এটি নিজের পুরনো দায়িত্বে ফিরে আসার প্রতীকী পদক্ষেপ। চিঠির শেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে লেখেন, “যে অপবাদে আমাকে মিথ্যা দোষী বানানো হয়েছে, তার জবাব আমি কাজের মাধ্যমেই দেব। আমি বেহালার সন্তান—এই মাটি আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জনতার উদ্দেশে খোলা চিঠি এবং দলীয় নেতৃত্বকে আইনি প্রশ্ন—এই দুই মিলে একটি বার্তাই বহন করছে: “আমি এখনও লড়াইয়ে আছি।”