অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মৃত্যু না খুন? ভোপাল মডেল খুশবুর রহস্যজনক মৃত্যুতে প্রেমিকের পুরনো অপরাধের যোগ, তদন্তে পুলিশ

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে মডেল খুশবু ভার্মার (২৭) সন্দেহজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য উঠে এসেছে। পরিবার সরাসরি খুনের অভিযোগ করলেও, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গর্ভধারণজনিত জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্য:

রিপোর্ট অনুসারে, খুশবু ভার্মা গর্ভবতী ছিলেন এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব ফেটে যাওয়ায় তাঁর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছিল। ডাক্তাররা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে হঠাৎ শারীরিক অবনতি ঘটে এবং তাঁর মৃত্যু হতে পারে। যদিও পরিবার খুশবুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার দাবি করেছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বাহ্যিক আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি

প্রেমিকের দাবি ও পরিবারের অভিযোগ:

এই ঘটনায় মডেলের প্রেমিক কাসিম আহমেদ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। গত দেড় বছর ধরে দুজনেই লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। কাসিম বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুলিশকে জানিয়েছেন যে, খুশবুর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তিনি নিজেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কাসিম দাবি করেছেন, খুশবু তাঁদের সন্তানকে রাখতে চেয়েছিলেন এবং তাঁরা শীঘ্রই বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি খুশবুর মাকে ফোন করে জানান যে খুশবু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তার শরীর শক্ত হয়ে গেছে। কাসিম তাঁকে চিরায়ু হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, খুশবুর পরিবার কাসিমের বিরুদ্ধে হামলা ও খুনের অভিযোগ এনেছে।

কাসিমের অপরাধমূলক ইতিহাস:

পুলিশের তদন্তে আরও জানা গেছে যে, কাসিম আহমেদের পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। তিনি অবৈধ মদ পাচারের অভিযোগে জেলও খেটেছেন। এছাড়া, কাসিম খুশবুর মোবাইল ফোন অনলাইন লেনদেনের জন্য ব্যবহার করতেন এবং টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ বর্তমানে এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে খুনের ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও তদন্ত করছে।