লালকেল্লা বিস্ফোরণ: মাসুদের বোন সাদিয়া আজহারের নেতৃত্বাধীন ‘জইশ মহিলা শাখা’র যোগ, গ্রেফতার ড. শাহিনা

লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবার সরাসরি পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) যোগসূত্র উঠে এল। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্যে জানা যাচ্ছে, এই নাশকতায় জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের নেতৃত্বাধীন মহিলা শাখার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি গাড়িতে তীব্র বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত ও অনেকে আহত হন। ঘটনার তদন্তে নেমে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে রাসায়নিক ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের পর লখনউয়ের বাসিন্দা ড. শাহিনা শহিদ নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ভারতে জইশের মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মুমিনাত’ (Jamaat-ul-Muminat)-এর হয়ে কাজ করছিলেন। তাঁর গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
এদিকে, ফরিদাবাদে শাহিনার সঙ্গে একই ইউনিভার্সিটিতে (আল-ফালাহ্ ইউনিভার্সিটি) কর্মরত কাশ্মীরি চিকিৎসক মুজাম্মিল গানাই-কেও গ্রেফতার করা হয়েছে। মুজাম্মিলের ভাড়াবাড়ি থেকেই বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। তিনি শ্রীনগরে জইশের সমর্থনে পোস্টারও লাগিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
সাদিয়া আজহার ও ‘অপারেশন সিঁদুর’
তদন্তে উঠে এসেছে, পুলওয়ামা এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও হামলার পর ভারত যখন পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায়, তখন মাসুদের পরিবারের ১০ জন সদস্য মারা যায়। নিহত হন সাদিয়া আজহারের স্বামী ইউসুফ আজহারও।
এই পাল্টা আঘাতের পরই মাসুদ আজহার তার বোন সাদিয়াকে প্রধান করে জইশের মহিলা শাখা ‘জামাল-উল-মুমিনাত’ (Jamal-ul-Muminat)-এর সূচনা করে। এই শাখাটি ‘দুখতারন-ই-ইসলাম’ নামে বিভিন্ন শিবির করার পাশাপাশি মেয়েদের ফিদায়েঁ বা আত্মঘাতী বাহিনীতে নিয়োগের জন্য অনলাইন কোর্সও চালু করে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের টার্গেট করাই ছিল এই শাখার মূল উদ্দেশ্য।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে এই মহিলা শাখাটির সরাসরি সংযোগ রয়েছে, যার শীর্ষেই রয়েছে মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার।