১ ডিসেম্বর থেকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন! মাত্র ১৯ দিনে শেষ কেন? সরকারের বিরুদ্ধে ‘চক্রান্তের গন্ধ’ খুঁজছে বিরোধীরা

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বহু প্রতীক্ষিত শীতকালীন অধিবেশন। শনিবার সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এক্স (পূর্বতন টুইটার)-বার্তায় জানান, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সরকারের প্রস্তাব গ্রহণ করে এই অধিবেশনের অনুমতি দিয়েছেন।
তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে অধিবেশনের সময়সীমা নিয়ে। সাধারণত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে প্রায় মাসখানেক ধরে শীতকালীন অধিবেশন চলার কথা থাকলেও, এবার অধিবেশনটি শুরু হবে ১ ডিসেম্বর এবং শেষ হবে ১৯ ডিসেম্বর। অর্থাৎ মাত্র ১৯ দিনেই সভার কার্যাবলি গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ‘চক্রান্তের গন্ধ’ খুঁজে বেড়াচ্ছে বিরোধী দলগুলি। বিরোধীদের সন্দেহ, দেশজুড়ে অপশাসন এবং বিভিন্ন রাজ্যে ভোটচুরির অভিযোগ নিয়ে মুখ ঢাকতেই সরকার তাড়াতাড়ি সংসদীয় কাজে হাত গুটিয়ে নেওয়ার মতলব আঁটছে। তারা মনে করছে, সংসদ দীর্ঘায়িত হলে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার সুযোগ বাড়বে, যা এড়াতেই এই পদক্ষেপ।
মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য অধিবেশন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে এক্স-বার্তায় লিখেছেন, “এবার গঠনমূলক ও অর্থবহ অধিবেশন হবে বলে আশা রাখি। যা আমাদের গণতন্ত্র এবং জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করবে।”
সংক্ষিপ্ত অধিবেশন নিয়ে সরকারি সূত্রে অবশ্য অন্য একটি কারণ জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, বিহারের ভোটের ফলপ্রকাশের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ২২-২৩ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের কারণে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে অধিবেশন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ১৯ দিনের এই অধিবেশন যে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণে উত্তপ্ত থাকবে, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।