‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিজেপিকে চরম আক্রমণ কুণাল ঘোষের, ‘ব্রিটিশদের দালালদের কথা বলার অধিকার নেই’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ নিয়ে আলোচনার পর এবার বঙ্গ রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দেমাতরম’। এই গানের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে বিজেপির গৃহীত কর্মসূচিকে বুধবার একহাত নিলেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বিজেপির পূর্বসূরীদের ব্রিটিশদের দালাল বলে উল্লেখ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

‘বন্দেমাতরম’ বিজেপির সঙ্গে যায় না
কুণাল ঘোষ স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে লেখা এই গানটি ১৯৫0 সালে ভারতের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা পায়। ৭ নভেম্বর গানের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে বিজেপির বছরব্যাপী কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য:

“এই গানটি বাংলা-সহ গোটা দেশে ব্রিটিশ বিরোধী দেশাত্মবোধের প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে, যে সময় বিজেপির পূর্বসূরীরা ব্রিটিশদের কাছে দাসখত লিখে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে দূরে থেকেছে। তাই বন্দেমাতরম বিজেপির সঙ্গে যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহিদ ক্ষুদিরাম বোস থেকে শুরু করে একের পর এক স্বাধীনতার যোদ্ধারা বন্দেমাতরম বলে ফাঁসির দড়ি গলায় নিয়েছেন… তাঁদের উত্তরসূরীদের বন্দেমাতরম নিয়ে কথা বলার কোনও অধিকার নেই।”

SIR আতঙ্ক এবং ‘নজর ঘোরানোর রাজনীতি’
কুণাল ঘোষের আক্রমণের নিশানায় ছিল SIR (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ) ইস্যুটিও। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এখন SIR নিয়ে ‘চরম বেকায়দায়’ পড়েছে।

আতঙ্ক সৃষ্টি: কুণালের দাবি, “মানুষকে ভয় দেখাতে তাঁরা এসআইআর ব্যবহার করেছিলেন। সেই এসআইআরকেই এখন বিজেপি ভয় পাচ্ছে।”

নজর ঘোরানো: তিনি মনে করেন, সুকান্ত মজুমদাররা বুঝতে পারছেন মানুষ আতঙ্কিত ও বিরক্ত। তাই এখন নজর ঘোরাতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন এবং এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিতর্ক তৈরি করছেন।

তৃণমূল মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার তৃণমূল বন্দেমাতরম পালন করবে।”

‘সব ধর্মের শেষ কথা মানবধর্ম’
দেশজুড়ে ধর্ম আর রাজনীতিকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কুণাল ঘোষ বলেন, ধর্ম মানুষের কাছে বিশ্বাস। তবে যাঁরা কোনো ধর্ম মানেন না, তাঁরাও সুপ্তভাবে কোনো না কোনো ধর্ম পালন করেন। তাঁর মতে, সব ধর্মেরই শেষ কথা হলো মানবধর্ম।