বিহার যাওয়ার পথে ভয়ঙ্কর পরিণতি! আনন্দ বিহার স্টেশনে ইঞ্জিনিয়ারের গাড়িতে দমবন্ধ হয়ে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

রেল দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ারের গাড়ির পিছনের সিট থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আনন্দ বিহার স্টেশনের কাছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির দরজা অজান্তেই লক হয়ে যাওয়ায় ভিতরে আটকে পড়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে ওই ২৮ বছর বয়সী যুবকের।
মৃত যুবকের নাম জাভেদ, তাঁর বাড়ি বিহারের পূর্ণিয়ায়। গত ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ আনন্দ বিহার স্টেশনের কাছে একটি পার্ক করা গাড়ির ভিতরে দেহটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, জাভেদের ব্যাগ, মোবাইল ফোন এবং জামাকাপড় গাড়ির ভিতর থেকেই উদ্ধার হয়েছে। তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। জিটি’বি হাসপাতালে ময়নাতদন্তে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন যে, শ্বাস নিতে না পেরেই জাভেদের মৃত্যু হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, রেলের সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার (ইলেকট্রিক্যাল) গুরু প্রতাপ সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে তাঁর গাড়িটি আনলক অবস্থায় পার্ক করে অফিসে ঢোকেন। এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ১১টা ২২ মিনিটে জাভেদ (যিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন) বিহার যাওয়ার জন্য স্টেশনে আসেন এবং গাড়ির পিছনের সিটে গিয়ে বসেন।
বেলা প্রায় ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ ওই ইঞ্জিনিয়ারের এক সহকর্মী লাঞ্চবক্স আনতে গাড়ির কাছে যান এবং অজান্তেই গাড়ির দরজা লক করে দেন। তিনি খেয়াল করেননি যে ভিতরে কেউ বসে আছেন। এরপর সিসিটিভিতে দেখা যায়, দুপুর ১টা ৫৪ থেকে ৩টা ১৩ পর্যন্ত জাভেদ গাড়ির ভিতরে নড়াচড়া করছেন এবং সম্ভবত দরজা খোলার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
সন্ধ্যা ৫টা ৩৪ মিনিটে গুরু প্রতাপ তাঁর গাড়ির কাছে ফিরে এসে দেখেন, পিছনের সিটে জাভেদের নিথর দেহ পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। গোটা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।