গাছ কাটলেও ‘কমবে না’ একটিও! জাপানীদের এই ‘গুপ্ত কৌশল’ শুনলে অবাক হবেন

একটি গাছ একটি প্রাণ—এই সত্যকে রক্ষা করেই চলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য। যেখানে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এক গুরুতর অপরাধ, সেখানে এমন এক ব্যবস্থা কি কল্পনা করা যায়, যেখানে দিনের পর দিন কাঠ কেটে নিলেও গাছের সংখ্যা কমে না? হ্যাঁ, এমন আশ্চর্য কৌশলই আবিষ্কার করে জাপানের মানুষ। ভূমিকম্প প্রবণ দেশ হওয়ায় জাপানে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ি তৈরি হয় কাঠ দিয়ে। কিন্তু এত কাঠ ব্যবহারের পরেও দেশের বনভূমি অক্ষত থাকে, কারণ তাদের রয়েছে ‘দাইসুগি’ (Daisugi) নামক এক অভিনব পদ্ধতি।

প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ বছর আগে জাপানিরা বৃক্ষরোপণ এবং কাঠ আহরণের এই পরিবেশ-বান্ধব কৌশলটি আবিষ্কার করেন। এই প্রক্রিয়ায় একটি মূল গাছকে দীর্ঘকাল পরিচর্যা করে বড় করা হয়। গাছটি পরিপক্ক হলে তার মূল কাণ্ডকে অক্ষত রেখে নির্দিষ্ট কিছু ডালপালা ছেঁটে নেওয়া হয়। এই মূল গাছটি ‘মাদার ট্রি’ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সেখান থেকে সোজা ও লম্বা কাঠ উৎপন্ন হতে থাকে, যা দিয়ে বাড়িঘর, হোটেল নির্মাণসহ যাবতীয় প্রয়োজন মেটানো হয়।

দাইসুগি পদ্ধতির কারণেই জাপানের বনভূমির পরিমাণ আজও প্রায় ৬৮ শতাংশ। এই কৌশল প্রাচীন গাছগুলোকে যেমন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাঁচিয়ে রাখে, তেমনই নতুন গাছের জন্মও নিশ্চিত করে। এমনকি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমার আঘাতে জাপানের বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, দ্রুত তারা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হয়। গাছের অভাব বা কাঠের সংকট কখনও জাপানিদের গ্রাস করতে পারেনি—এই অসাধারণ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সৌজন্যে।