‘ঘুষ’ দিতে হলো মেয়ের শেষকৃত্যেও, সন্তানহারা বাবাকেও ছাড় নয়!

একমাত্র মেয়ের অকালমৃত্যুর শোক তখনও শুকোয়নি। এক হতভাগ্য বাবার মানসিক বিপর্যস্ততার সুযোগ নিল অর্থপিশাচ ‘মানুষরূপী শকুনের দল’। অ্যাম্বুল্যান্স চালক থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অফিসার— প্রতিটি পদক্ষেপে নির্লজ্জের মতো ঘুষ আদায় করা হলো সদ্য সন্তানহারা বাবার থেকে। ভারত পেট্রলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর অবসরপ্রাপ্ত এক অফিসারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উঠে আসা এই মর্মান্তিক ঘটনায় বেঙ্গালুরুর নগ্ন দুর্নীতির করুণ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।

অবসরপ্রাপ্ত অফিসার কে শিবকুমার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তুলে ধরেছেন জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও অসহায় দিনের কথা। তাঁর একমাত্র সন্তান, ৩৪ বছরের মেয়ে অক্ষয়া-কে হারিয়ে তিনি তখন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। শোকাহত, কথা হারিয়ে ফেলা বাবার চোখের জলও কিন্তু অর্থলোভী ‘দালাল’-দের মনে এতটুকু দাগ কাটতে পারেনি।

শিবকুমারের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূত কোনও কাজের জন্য অনুরোধ না জানালেও, অ্যাম্বুল্যান্স থেকে শুরু করে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, পারলৌকিক ক্রিয়া, এমনকি ডেথ সার্টিফিকেট পর্যন্ত— সব ক্ষেত্রেই তাঁকে নির্লজ্জের মতো ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়।

BPCL-এর প্রাক্তন অফিসার তাঁর পোস্টে লিখেছেন,

💬 “সম্প্রতি আমার একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স, এফআইআর এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য পুলিশকে, মৃতদেহ দাহ করার রসিদ দিতে শ্মশানে এবং ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য বিবিএমপি (BBMP) অফিসে ঘুষ দিতে হয়েছে আমাকে।”

অ্যাম্বুল্যান্স: কাসাভানাহল্লির এক হাসপাতাল থেকে করমাঙলার সেন্ট জনস হাসপাতালে মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে যেতে অ্যাম্বুল্যান্স চালক একাই ৩,০০০ টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন।

পুলিশ: থানায় গিয়েও প্রতিটি ধাপে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। মৃত্যুর দিনই শুধু নয়, চার দিন পরে এফআইআর এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কপি আনার দিনও তাঁর থেকে টাকা চেয়েছেন পুলিশকর্মীরা।

সরকারি অফিস: ডেথ সার্টিফিকেট নিতেও সরকার নির্ধারিত ফি-এর থেকে অনেক বেশি টাকা দিতে বাধ্য হন তিনি।

নিজের অসহায়তা প্রকাশ করে শিবকুমার আফসোস করে লেখেন, “একমাত্র সন্তান হারানো পিতার প্রতি কোনও সহানুভূতি নেই। সকলের শুধু টাকা চাই।” এরপরই তিনি সিস্টেমের দিকে ছুঁড়ে দেন কড়া প্রশ্ন:

🗣️ “আমার টাকা আছে, আমি দিতে পেরেছি। গরিব মানুষেরা কী করবেন? অবস্থা খুবই খারাপ।”

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে নেটপাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড পুলিশ বিভাগ। শিবকুমারের পোস্টে উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে বেলান্দুর থানার একজন পিএসআই (PSI) এবং একজন পুলিশ কনস্টেবলকে সঙ্গে সঙ্গেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়েছে। ডিকে শিবকুমারের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, অ্যাম্বুল্যান্স, শ্মশান ও বিবিএমপি-সহ বাকি যাঁরা ঘুষ নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।