‘ভুয়ো’ ঠিকানায় ভোটারদের বসবাস! সুলভ শৌচালয় থেকে রেলস্টেশন, নব্য মুম্বইয়ের ভোটার তালিকায় চরম কারচুপি, ফুঁসছে MNS

দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যখন ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের (SIR) কাজ চলছে, ঠিক তখনই মহারাষ্ট্রে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজ্যের ২৯টি পুরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার নিদান দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তার আগেই নব্য মুম্বইয়ের ভোটার তালিকায় ধরা পড়ল ব্যাপক কারচুপির ঘটনা!

মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS) সম্প্রতি এক তথ্য প্রকাশ করে দাবি করেছে, নব্য মুম্বইয়ের ভোটার তালিকায় এমন সব ঠিকানা নথিভুক্ত রয়েছে, যা শুনে চোখ কপালে উঠবে।

শৌচালয়-রেলস্টেশনই ঠিকানা!
দলের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গিয়েছে, কিছু ভোটারের বাড়ির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সুলভ শৌচালয়, কারও আবার ঠিকানা নেরুল রেলস্টেশন। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নব্য মুম্বই মিউনিসিপাল কমিশনারের বাংলো পর্যন্ত ভোটারদের ঠিকানায় উল্লিখিত রয়েছে!

দলের মুখপাত্র তথা নব্য মুম্বইয়ের MNS সভাপতি গজানন কালে এই ঘটনায় দ্রুত ভোটার তালিকা অডিটের দাবি জানিয়েছেন।

💬 গজানন কালের মন্তব্য: “সুলভ শৌচালয় কারও বাসস্থান হতে পারে না, তবুও এটি ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে। পুরপ্রধানের সরকারি বাসভবনের ঠিকানাতেই ১২৭ জন ভোটারের নাম নথিভুক্ত করা রয়েছে! এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা যোগসাজশের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—ভুয়ো নাম নথিভুক্ত করে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা।”

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থার প্রশ্ন
এই কারচুপির ঘটনা কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেনি, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থাও নাড়িয়ে দিয়েছে।

নাগরিক কর্মী এবং অনলাইন মানববন্ধনের আহ্বায়ক বি এন কুমার বলেন, “ভোটার তালিকার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিজে থেকেই নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এটি কেবল রাজনীতির বিষয় নয়, এটি ব্যবস্থার উপর আস্থা হারানোর বিষয়।”

ভোটার তালিকায় এই গড়মিলকে মুম্বই, পুনে বা বেঙ্গালুরুর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এটিকে একটি বৃহত্তর জাতীয় প্যাটার্ন হিসেবে দেখছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গ—দেশজুড়ে যখন ভুয়ো, মৃত এবং অনুপ্রবেশকারী ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে তোলপাড় চলছে, তখন মহারাষ্ট্রের এই তথ্য সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিল।

এই ধরণের ঘটনা বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ, অ্যাক্টিভিস্ট সহ রাজনীতিকরা।