ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ, চীন-রাশিয়ার আধিপত্য মোকাবিলায় আমেরিকা পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করবে, ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর। তিনি জানিয়েছেন, ৩৩ বছর পর আমেরিকা অবিলম্বে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করবে। চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক আধিপত্য মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।ট্রাম্পের দাবি: চীন তার পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার ১,০০০-এ উন্নীত করার কাজ করছে। ট্রাম্প চীন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করার পর জানান, উপযুক্ত সময়ে এই পরীক্ষা শুরু করা হবে।রাশিয়ার প্রেক্ষাপট: রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সীমাহীন দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র ‘পোসাইডন’ (ডুবো ড্রোন) এবং ‘বুরেভেস্টনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।ইতিহাস: আমেরিকা শেষবার ১৯৯২ সালে নেভাদায় ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল।ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, পারমাণবিক বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু তাঁর প্রথম মেয়াদে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার আধুনিকীকরণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তাঁর দাবি, চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমেরিকার সমকক্ষ হয়ে উঠবে।ভারতের জন্য নতুন সুযোগ? চীনকে ঠেকাতে হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার পরামর্শমার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন উত্তেজনাপূর্ণ বিশ্ব পরিস্থিতি এবং চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের কথা উল্লেখ করছেন, তখন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতও “পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি”-র কথা বলে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে।অ্যাশলে টেলিসের পরামর্শ: মার্কিন বিশেষজ্ঞ অ্যাশলে জে. টেলিস তিন বছর আগে ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ অর্জনের জন্য হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।চীনের হুমকি: চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষ করে অ-পারমাণবিক হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা, ভারতের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য চীন যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাতে বিশ্লেষকরা মনে করেন ভারতের হাইড্রোজেন বোমা উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়া উচিত।১৯৯৮ সালের ব্যর্থতা: টেলিসের মতে, ভারত ১৯৯৮ সালে হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।মার্কিন বিশ্লেষক টেলিস আরও বলেন, চীনকে মোকাবিলা করার জন্য ভারত যদি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা করে, তবে আমেরিকার উচিত ভারতকে শাস্তি না দিয়ে বরং সমর্থন করা, যাতে ভারত একটি কার্যকর পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে।বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি (প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী):বিশ্বে বর্তমানে মোট ৯টি দেশের কাছে প্রায় ১৩,০০০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ অস্ত্র আমেরিকা ও রাশিয়ার দখলে।দেশব্যবহারের জন্য প্রস্তুত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা (প্রায়)আমেরিকা১,৭৭০রাশিয়া১,৭১৮ফ্রান্স২৮০ব্রিটেন১২০চীন২৪ভারত১৮০পাকিস্তান১৭০ইসরায়েল৯০উত্তর কোরিয়া৫০আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীনের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আবারও বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু করার আশঙ্কা তৈরি করছে।