দিল্লিতে দূষণ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান ব্যর্থ, ক্লাউড সিডিং ট্রায়ালে কোটি টাকা খরচ, ফল সামান্য

দীপাবলির পর থেকে দূষণের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রাজধানী দিল্লি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি সরকার এবং আইআইটি কানপুরের যৌথ উদ্যোগে ভরসা রাখা হয়েছিল প্রযুক্তির ওপর— ক্লাউড সিডিং (Cloud Seeding) বা কৃত্রিম মেঘ বপন। তবে চলতি মাসে তিনবার (২৩ অক্টোবর একবার, ২৮ অক্টোবর দু’বার) পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হলেও, আশানুরূপ বৃষ্টি হয়নি।বিপুল খরচ, সামান্য ফল:ব্যয়: এই তিনটি পরীক্ষার জন্য এখনও পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা।বাজেট: দিল্লি সরকার এই শীতে মোট ন’টি ট্রায়ালের জন্য ৩.২১ কোটি টাকার বাজেট রেখেছে। অর্থাৎ, প্রতিবার ট্রায়ালের গড় খরচ ৩৫ লক্ষ টাকারও বেশি।বিশেষজ্ঞের মত: আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর মণীন্দ্র আগরওয়াল জানিয়েছেন, অক্টোবরের দুটি ট্রায়ালের খরচই প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। তিনি মনে করেন, বিমানটিকে কানপুর থেকে উড়াতে হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটের ফি ও জ্বালানির খরচ বিপুল হচ্ছে।কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, দিল্লির মোট দূষণ নিয়ন্ত্রণ বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হলেও, এমন অস্থায়ী সমাধানের জন্য এত বিপুল অর্থ খরচ করা ‘যুক্তিসঙ্গত নয়’।কেন ব্যর্থ হলো ক্লাউড সিডিং?মঙ্গলবার আকাশে ওড়ানো দু’টি বিমান থেকে মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজ়ড লবণ ও রক সল্ট। এই উপাদানগুলিই বৃষ্টির ফোঁটা তৈরি করতে সাহায্য করে। কিন্তু বৃষ্টি প্রায় না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মণীন্দ্র আগরওয়াল:”এটা কোনও ম্যাজিক নয়, দূষণ কমানোর একটি বিকল্প পদ্ধতি মাত্র। মেঘে আর্দ্রতা ছিল মাত্র ১৫-২০ শতাংশ। এত কম আর্দ্রতায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না।”মেঘে যথেষ্ট আর্দ্রতা না থাকায় প্রযুক্তি কাজ করেনি।বাতাসের গুণমানে সামান্য উন্নতি:যদিও কৃত্রিম বৃষ্টি আশানুরূপ হয়নি, তবে দিল্লির বিজেপি সরকারের দাবি, ক্লাউড সিডিংয়ের পর বাতাসের গুণমানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে।এলাকাPM2.5 স্তর (সিডিংয়ের আগে)PM2.5 স্তর (সিডিংয়ের পরে)ময়ূরবিহার২২১২০৭করোলবাগ২৩০২০৬বুরারি২২৯২০৩পরীক্ষার পরে নয়ডায় ০.১ মিমি এবং গ্রেটার নয়ডায় ০.২ মিমি বৃষ্টিও রেকর্ড করা হয়।দিল্লির পিছুপিছু কলকাতা:দিল্লির মতোই ভয়াবহ ধোঁয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে কলকাতাও। দীপাবলির পর থেকেই শহরজুড়ে বাতাসে ঘন ধূলিকণা, অনেকেরই গলায় কাঁটা ভাব ও চোখে জ্বালা শুরু হয়েছে। দূষণ মাপার সূচকে তিলোত্তমাও এখন ভয়াবহ সংকেতের দিকে এগোচ্ছে।