পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ কবিগুরুর শান্তিনিকেতনের ‘ফুলবাড়ি’! কেন বাইরে থেকেই দেখতে হয় এই বাড়ি?

আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সকালে কিছুটা গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে শীতের স্পর্শ অনুভূত হচ্ছে। ভোরে চাদর বা লেপ ছাড়া ঘুম ভাঙছে না বীরভূমের বাসিন্দাদের। আর এই মনোরম আবহাওয়ার কারণে দূর-দূরান্তের পর্যটকরা বীরভূম ভ্রমণে আসতে শুরু করেছেন। বীরভূমের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোলপুর শান্তিনিকেতন, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।
বর্তমানে বোলপুর শান্তিনিকেতন পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান। একদিকে যেমন রয়েছে বিশ্বকবির বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও মিউজিয়াম, তেমনই রয়েছে সোনাঝুরির হাট। তবে শান্তিনিকেতনের এই আকর্ষণীয় স্থানগুলির ভিড়ে অনেকেই জানেন না এমন একটি বাড়ির কথা, যা সম্পূর্ণভাবে গাছগাছালি দ্বারা আবৃত—নাম তার ‘দক্ষিণ হাওয়া’ বাংলো।
‘দক্ষিণ হাওয়া’ বাংলোর আকর্ষণ
সিমেন্ট, বালি, পাথর দিয়ে তৈরি করা হলেও, এই বাড়িটি দেখতে গেলে পর্যটককে কার্যত গাছগাছালির ভিড়ে হাতের ফোনটি ব্যবহার করতে হবে ছবি তোলার জন্য। কারণ, এই ফুলবাড়ীর ভেতরে কোনও পর্যটকের প্রবেশের ছাড়পত্র নেই, তাই বাইরে থেকেই এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয়।
ফুলের সমাহার: বর্তমান সময়ে যখন কলকাতা বা মুম্বাইয়ের মতো শহরেও বীরভূমের ফুলের চাহিদা তুঙ্গে, তখন এই ‘দক্ষিণ হাওয়া’ বাংলোটি যেন বিভিন্ন ধরনের ফুলের মাঝে একটি বাড়ি। কবিগুরুর শান্তিনিকেতনের এই বাংলোটি শীতে ফুলে-ফলে ভরে উঠেছে।
গাছের বৈচিত্র্য: বাগানে রয়েছে শতাধিক প্রজাতির চন্দ্রমল্লিকা এবং ৩০-৪০ প্রজাতির কাগজ ফুল, সব মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় কয়েকশো।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: ‘দক্ষিণ হাওয়া’ শুধু একটি বাংলো বাড়ি নয়, এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। দূর দূরান্ত থেকে বহু পর্যটক এখানে ছুটে আসেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি লাভ করতে।
বোলপুর শান্তিনিকেতনের এখন অন্যতম আকর্ষণ এই ‘দক্ষিণ হাওয়া’ বাংলো। শীতের এই আরামদায়ক আবহাওয়ায় এর ফুল ও ফলের সমাহার পর্যটকদের মুগ্ধ করে তুলছে।