ঘুম কেড়ে নিচ্ছে আপনার বালিশ! ব্রণ, হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্টের কারণ এই কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া

আপনি হয়তো প্রতিদিন ঘরের মেঝে পরিষ্কার করেন, কিন্তু বিছানার বালিশের কভারকে প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। তবে জেনে অবাক হবেন, মাসের পর মাস বালিশের কভার না ধুলে তাতে টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে! এই জীবাণুগুলি আপনার রাতের ঘুম হারাম করতে পারে এবং মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে।
কতটা নোংরা আপনার বালিশ? আমেরিকার ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের একটি রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বালিশের কভার মাত্র এক সপ্তাহ না ধুলে তাতে ১৭,০০০ গুণেরও বেশি ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে। আর যদি চার সপ্তাহ ধরে চাদর ও বালিশের কভার না ধোয়া হয়, তবে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। এই অপরিষ্কার বালিশের কভারে গ্রাম-নেগেটিভ রডস, বেসিলি এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাস (Staphylococcus) ও স্ট্রেপটোকক্কাস (Streptococcus)-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ত্বকের সমস্যা: বালিশের কভারের ওপর জমে থাকা ধুলো, ঘাম, তেল এবং মৃত ত্বকের কোষগুলি ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিশে আপনার ত্বকের ক্ষতি করে। এর ফলে:
ত্বক: ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ (Acne), একজিমা (Eczema) বা রোসেসিয়া-র মতো সমস্যা বেড়ে যায়।
ছত্রাক সংক্রমণ: আর্দ্র বালিশে ফাঙ্গাস (ছত্রাক) জন্ম নিতে পারে, যা দাদ (Ringworm)-এর মতো সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জি: অপরিষ্কার বালিশে ধূলিকণা, ছাঁচ (mold) এবং পোষা প্রাণীর চুল জমা হয়। এর ফলে অ্যালার্জি এবং হাঁপানি (Asthma)-র মতো সমস্যা বাড়তে পারে, যা হাঁচি, চোখ দিয়ে জল পড়া এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন এমনটা চললে ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজ-এর ঝুঁকিও বাড়ে।
এছাড়াও, যদি আপনার মুখে বা ত্বকে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকে, তবে স্ট্যাফাইলোকক্কাস এবং স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সহজে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কভার না বদলালে উকুন বা বিছানার ছারপোকার মতো সমস্যাও হতে পারে।
করণীয় কী? এই সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে বালিশের কভার এবং বিছানার চাদর প্রতি সপ্তাহে একবার অবশ্যই ধোয়া উচিত। গরম জলে ধোয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি, বালিশ মাঝেমধ্যে কড়া রোদে শুকাতে দিলে পরজীবীর ঝুঁকি কমে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিছানা শুধুমাত্র আপনার ত্বক ও শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বরং ঘুমের গুণগত মানও উন্নত করে।