আর্থিক যুদ্ধের আশঙ্কা! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে RBI কেন বিদেশ থেকে সরাল দেশের সম্পত্তি?

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) দেশের সম্পদ সুরক্ষিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে, বিদেশে রাখা নিজের ৬৪ টন সোনা ভারতে ফিরিয়ে এনেছে। বিশ্ব মঞ্চে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং ‘আর্থিক যুদ্ধের’ (financial warfare) ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে মাথায় রেখে ভারত এখন তার মূল্যবান সম্পদ বিদেশি মাটিতে রাখার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
সোনা ‘ঘরে’ আনার কারণ: এই ‘গোল্ড-হোমকামিং’-এর পিছনে একটি গুরুতর এবং তাৎক্ষণিক কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব এমন বেশ কিছু ঘটনা দেখেছে যা বিদেশী সিন্দুক বা ভল্টগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা দখল। এই উভয় ক্ষেত্রেই, পশ্চিমা দেশগুলির জি-৭ গোষ্ঠী রাশিয়া এবং আফগানিস্তানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ বাজেয়াপ্ত করে নেয়। এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের সম্পত্তির সুরক্ষা সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করেছে। এই ভয় তৈরি হয়েছে যে রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে কোনো দেশ আপনার সম্পদকে আপনার বিরুদ্ধেই ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বা ফ্রিজ করে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, সোনা, যা যেকোনো দেশের সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ, তাকে নিজের মাটিতে, নিজের ভল্টে রাখাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। উল্লেখ্য, RBI মার্চ ২০২৩ থেকে এই পর্যন্ত মোট ২৭৪ টন সোনা বিদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে এনেছে।
ভারতের সিন্দুকে এখন কত সোনা? সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর শেষ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে মোট ৮৮০.৮ টন সোনা মজুত রয়েছে। এই নতুন পদক্ষেপের পর, এর একটি বড় অংশ, অর্থাৎ ৫৭৫.৮ টন সোনা, এখন ভারতের নিজস্ব সিন্দুকে সুরক্ষিতভাবে রাখা হয়েছে।
বাকি সোনা: বর্তমানে ২৯০.৩ টন সোনা এখনও ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড (BoE) এবং ব্যাঙ্ক অফ ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস (BIS)-এর কাছে রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই দুটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির জন্য সোনা সংরক্ষণের কাজ করে। এছাড়া ১৪ টন সোনা গোল্ড ডিপোজিট হিসেবে রাখা আছে।
তুলনামূলক চিত্রে: ৩১ মার্চ, ২০২৫-এর তথ্য অনুসারে, RBI-এর কাছে মোট ৮৭৯ টন সোনা ছিল, যার মধ্যে ৫১২ টন ভারতে এবং ৩৪৮.৬ টন বিদেশে ছিল। এই তুলনা স্পষ্টভাবে দেখায় যে কীভাবে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৬৪ টন সোনা ভারত ফিরিয়ে এনেছে এবং বিদেশী হোল্ডিং কমানো হয়েছে।