ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারে চরম উত্তেজনা! শুভেন্দুর নিশানায় তৃণমূল নেতা-BLO, নাম ফাঁস হতেই তোলপাড়

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) পর্ব শুরু হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, শাসকদল তৃণমূলের ‘দলদাস’ কিছু বুথ লেভেল অফিসার (BLO) সক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকা ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করছেন।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযোগকে আরও জোরালো করে তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে রীতিমতো নাম প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট BLO-দের দ্রুত অপসারণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর পোস্টে সবচেয়ে আলোচিত নাম মো. আলাউদ্দিন মোল্লা, যিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ লেভেল অফিসার। শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ, মো. আলাউদ্দিন মোল্লা সারিশা অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি এবং তাঁর স্ত্রী লিয়ালা বিবি ডায়মন্ড হারবার ব্লক নং ২-এর নির্বাচিত তৃণমূল সদস্য।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “এই ধরনের রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের BLO হিসেবে নিযুক্ত রাখা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারা সরাসরি শাসক দলের স্বার্থে ভোটার তালিকা ম্যানিপুলেট করতে পারে। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে এই অফিসারদের অপসারণের অনুরোধ করছি।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে যখন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলছে, তখন এই ধরনের অভিযোগ নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়াবে। BLO-রা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের কাজ করেন। এই পর্যায়ে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠলে তা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। যদি তদন্তে দেখা যায় কোনো BLO রাজনৈতিকভাবে যুক্ত, তবে নির্বাচন কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।” যদিও নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

পাল্টা বাকযুদ্ধ: স্বচ্ছতার দাবি না রাজনৈতিক কৌশল?

এই ঘটনার জেরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিজেপি দাবি করছে, তৃণমূল প্রশাসন ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। অপরদিকে, তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য— শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলছেন।

রাজনৈতিক মহলে এখন জোর জল্পনা, শুভেন্দুর এই প্রকাশ্য নামফাঁস ও অভিযোগ কি সত্যিই রাজ্যে নির্বাচনী স্বচ্ছতার দাবিকে শক্তিশালী করবে, নাকি এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে কেবলই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে মজবুত করার কৌশল? তবে এটুকু নিশ্চিত, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে চলেছে।