আইসল্যান্ডে প্রথমবার মশা! যে দেশে সাপ-সরীসৃপ বাঁচে না, সেখানে কী এমন ঘটল? ঘুম উড়ল গবেষকদের!

মাসখানেক আগেও যা ছিল প্রায় অসম্ভব, এখন তা বাস্তব। যে দেশ শীতল জলবায়ুর জন্য সাপ বা কোনো সরীসৃপ ছাড়াই পরিচিত, যেখানে মশার অস্তিত্বও এতদিন ছিল না, সেই আইসল্যান্ডে এবার প্রথমবারের মতো মশার দেখা মিলেছে! এই নতুন তথ্যে গবেষক-বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রীতিমতো উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

মশার অস্তিত্বের প্রমাণ

আইসল্যান্ডের ন্যাচারাল সায়েন্স ইনস্টিটিউটের একজন কীটতত্ত্ববিদ ম্যাথিয়াস আলফ্রেওসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একজন গবেষক রাজধানী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কিওফেল এলাকায় মশার নমুনা সংগ্রহ করে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন। সংগৃহীত তিনটি নমুনার (দুটি স্ত্রী ও একটি পুরুষ মশা) প্রজাতি হলো কুলিসেটা অ্যানুলাটা। মথ আকর্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত ওয়াইন রোপ থেকে এই নমুনাগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল।

কেন এতদিন মশা ছিল না?

বিজ্ঞানীরা এতদিন পর্যন্ত জানিয়েছিলেন, আইসল্যান্ডের দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং মাইনাস ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা মশার জীবনচক্র (ডিম থেকে লার্ভা হওয়া) সম্পূর্ণ করার জন্য প্রতিকূল। এছাড়া সে দেশের প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দ্রুতগতির জল ব্যবস্থার কারণে মশার প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় অগভীর, স্থির জল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ফলে মশা জৈবিকভাবে বেঁচে থাকতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারত না।

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ঙ্কর প্রভাব

তবে এই আশঙ্কা ছিলই। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন, আইসল্যান্ডের ব্যাপক জলাভূমি থাকার কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হলেই সেখানে মশা বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করবে। সেই আশঙ্কাই এখন সত্যি হলো।

কারণ, আইসল্যান্ড উত্তর গোলার্ধের বাকি অংশের চেয়ে চারগুণ বেশি হারে উষ্ণ হচ্ছে, ফলে হিমবাহ ভেঙে পড়ছে এবং আবহাওয়ার স্থিতিশীলতা আসছে।

গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, শুধু আইসল্যান্ড নয়, জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনে অন্যান্য স্থানেও বিপদজনক মশার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ব্রিটেনে মিশরীয় মশার (এডিস এজিপ্টি) ডিম এবং কেন্টে এশিয়ান টাইগার মশা (এডিস অ্যালবোপিকটাস) পাওয়া গেছে। এগুলি আক্রমণাত্মক প্রজাতি, যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং জিকা ভাইরাসের মতো রোগ ছড়াতে পারে। আইসল্যান্ডে মশার উপস্থিতি তাই আর কেবল প্রাকৃতিক ব্যতিক্রম নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের এক মারাত্মক সতর্কবার্তা।