ভারতের উপর ৫০% শুল্ক কমিয়ে ১৫% করতে রাজি ট্রাম্প! চূড়ান্ত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি,

উৎসবের মরশুমে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এল এক বিরাট স্বস্তির খবর। জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে রাজি হয়েছেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শিগগিরই আমেরিকার শুল্কের বোঝা ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
৫০% থেকে ১৫% কেন এই ছাড়?
এর আগে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি এবং বাণিজ্যচুক্তি না হওয়ার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে আরও ২৫% শুল্ক বৃদ্ধি করায় মোট শুল্কের বোঝা দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এই অতিরিক্ত শুল্কের জেরে ভারতের পোশাক, বস্ত্র এবং চিংড়ি রফতানি ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং দেশের বহু বস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
‘গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই শুল্কের ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আমেরিকায় ভারতের পণ্য রফতানি প্রায় ৪৩ শতাংশ (৪৯.৬ বিলিয়ন ডলারে) হ্রাস পেতে পারত। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এতে ভারতীয় রফতানি শিল্পে প্রাণ ফিরবে এবং দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।
মার্কিন সিদ্ধান্তের পিছনে চিনের প্রভাব
আমেরিকার এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে চিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কৃষিপণ্যের নতুন ক্রেতা খুঁজছে, কারণ চিন নাটকীয়ভাবে মার্কিন ভুট্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ২০২২ সালে যেখানে চিন ৫.২ বিলিয়ন ডলারের ভুট্টা কিনেছিল, ২০২৪ সালে সেই পরিমাণ মাত্র ৩৩১ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
এই প্রবল পতনের ফলে মার্কিন কৃষিপণ্যের জন্য ভারত হয়ে উঠতে পারে এক বড় বাজার। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক দৃঢ় করার পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসন এখন তাদের ভুট্টা, সয়াবিন ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের জন্য চিনকে বাদ দিয়ে ভারতকে বিকল্প ক্রেতা হিসেবে দেখছে।
কৃষকদের স্বার্থে অনড় মোদি সরকার
দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কর্পোরেট সংস্থাগুলি ভারতের কৃষি, মৎস্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানালেও ভারত তাতে ছাড় দিতে নারাজ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তিনি কৃষকদের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করবেন না এবং প্রয়োজনে ভারত অর্থনৈতিক ক্ষতি স্বীকার করতে প্রস্তুত।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক দিক থেকেও ভারতের জন্য বড় জয়। আগামী দিনে বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রফতানি ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরদার হবে। উৎসবের আগে এমন ইতিবাচক ইঙ্গিত নিঃসন্দেহে দেশের বাজারে নতুন আশার সঞ্চার করবে।