বধির কিশোরীকে ইটভাটায় টেনে নিয়ে ‘গণধর্ষণ’! দত্তপুকুরে ভয়ঙ্কর অপরাধ, সিসিটিভি-তে ধরা পড়ল অভিযুক্ত

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে এক মর্মান্তিক ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল। অভিযোগ, ১৫ বছরের এক মূক ও বধির মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীকে অপহরণ করে ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই জঘন্য ঘটনায় ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর ১টা থেকে ওই কিশোরীকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গভীর রাতে পীরগাছার একটি ইটভাটায় বিবস্ত্র ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশ তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ছুটে যান। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বর্তমানে কিশোরী বাড়িতে রয়েছে।
নির্যাতিতার কাকা জানান, “আমরা দুপুর থেকে অনেক জায়গায় খুঁজেছি। রাতে খবর পাই পুলিশ উদ্ধার করেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমাদেরই মেয়ে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনও মেডিক্যাল রিপোর্ট পাইনি। তবে তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমাদের অনুমান, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা দোষীর কঠোরতম শাস্তি চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে এক ব্যক্তি সাইকেলে করে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনায় একজন না আরও কেউ জড়িত, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। যেহেতু কিশোরী কথা বলতে পারে না, তাই তার পক্ষে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ যেন এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্যদের খুঁজে বের করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি ও সিপিএম। রাজ্যে নারীরা সুরক্ষিত নন বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। যদিও তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে উড়িয়ে দিয়েছেন বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তিনি জানান, “কদম্বগাছি ফাঁড়ির পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। মেয়েটি আকার-ইঙ্গিতে শারীরিক নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানায়। অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত যে সাইকেলে ওই কিশোরীকে নিয়ে গিয়েছিল, তাকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”