শুধু ‘শারীরিক সম্পর্ক’ বললেই ধর্ষণ প্রমাণিত নয়! গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে দিল্লি হাইকোর্ট, কী ছিল আদালতের রায়?

‘শারীরিক সম্পর্ক’ (Physical Relation) শব্দটি উচ্চারণ করলেই ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয় না— এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের মতে, অভিযোগের সমর্থনে যথাযথ প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলে শুধুমাত্র এই শব্দের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

এই সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে নিম্ন আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরির বেঞ্চ সেই সাজা বাতিল করে অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার বিশেষ পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে ‘শারীরিক সম্পর্ক’ (Physical Relation) শব্দটি ব্যবহার করা হলেও তার সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট বা সমর্থনযোগ্য প্রমাণ জুড়ে দেওয়া হয়নি। তাই এটিকে ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।”

বিচারপতি আরও বলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) কিংবা পোকসো আইনে (POCSO Act) ‘physical relations’ বা ‘শারীরিক সম্পর্ক’ শব্দটির কোনও আইনি সংজ্ঞা নেই। ফলে এই শব্দের অর্থ কী এবং তা আদৌ যৌন নিপীড়নের সমার্থক কিনা, সেই ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

২০২৩ সালে দায়ের হওয়া এই মামলায় অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘শারীরিক সম্পর্ক’ গড়েছিলেন। এই বিষয়ে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা আদালতে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও, কোনও ফরেনসিক বা চিকিৎসাগত প্রমাণ পেশ করা হয়নি।

রায়ে বিচারপতি ওহরি স্পষ্ট করে লেখেন, “যদি বয়ানে প্রয়োজনীয় বিবরণ না থাকে, তবে আদালতের কর্তব্য সেই সাক্ষ্য থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য বের করতে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা এবং শিশুটি সাক্ষ্য দিতে সক্ষম কিনা তা যাচাই করা। আদালত কখনও নীরব দর্শক হতে পারে না; প্রয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হয়।”

আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের যৌন অপরাধ মামলাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করবে। আদালত স্পষ্ট করেছে—অভিযোগের ভাষা নয়, প্রমাণই শেষ কথা এবং অভিযোগ কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা বিচার করতে আদালতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।