কাকদ্বীপে মা কালীর মূর্তি ভাঙচুর! ভিডিও পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারীর ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হুঁশিয়ারি, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

রাজ্যে নারী নির্যাতন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলকে বারবার আক্রমণ করার পর, এবার কাকদ্বীপে মা কালীর মূর্তি ভাঙচুরের খবর প্রকাশ্যে আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাতে প্রতিমার মাথা ভেঙে দেওয়ার এই ঘটনাকে রাজ্যের ‘ভবিষ্যতের বিপদ’ বলে উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে কাকদ্বীপ বিধানসভার সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উত্তর চন্দনপুর গ্রামের পুজো মণ্ডপে মা কালীর প্রতিমার মাথা ভেঙে দিয়েছে কয়েকজন দুষ্কৃতী। খবরটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে পুলিশ পরে মন্দিরের দরজা খুলতে বাধ্য হয় এবং ছবি সংগ্রহ করার অনুমতি দেয়।

ঘটনার ভিডিওটি আজ নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা লেখেন, “নিচের ভিডিওটা বাংলাদেশ নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অবস্থা। আমি বার বার বলেছি পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে, হিন্দুরা এখনি না জাগলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে আগামী দিনে।”

তিনি এই ঘটনার পরিণতির জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দায়ী করেছেন। তাঁর পোস্টে শুভেন্দু লেখেন: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুষ্টিকরণের রাজনীতির ফল ভোগ করছে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা। মমতার অপশাসনে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের সন্ত্রাসীদের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু দেবদেবীদের প্রতিমা ভাঙচুর, মণ্ডপ ভাঙচুর, হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাট করা বা জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আজ পর্যন্ত কোনো শাস্তি হয়নি, যে কারণে এই ধরণের জেহাদি কার্যকলাপ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।”

জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন।

যদিও এই ধরনের ঘটনা প্রথমবার নয়, এর আগেও দেবদেবীর মূর্তি ভাঙার খবর শিরোনামে এসেছিল। অন্যদিকে, প্রায় আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী পূর্ব বর্ধমানের রসুলপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের কালীপুজোর রাতে দেবীমূর্তির গা থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গয়না উধাও হওয়ার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ঘটনায় অবশ্য পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ওই পরিবারেরই একজন অতিথি বলে জানা গিয়েছে।

তবে কাকদ্বীপের ঘটনা এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হলেও, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।