বিহারে চরম নাটক! মহাজোটের শরিক JMM-এর ‘অভিমানী’ ইস্তফা, ৬ আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এলেন সোরেনের দল!

বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নাটকীয় মোড় নিল রাজ্যের রাজনীতি। বিরোধী মহাজোটের (Mahagathbandhan) অন্যতম শরিক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) প্রথমে ৬টি আসনে একাকী লড়ার ইঙ্গিত দিলেও, এখন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা করেছে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন জেএমএম শুরুতে চakai, Dhamdaha, Katoria, Manihari, Jamui এবং Pirpainti—এই ছয়টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। এই পদক্ষেপকে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে আরজেডি (RJD) এবং কংগ্রেসের (Congress) মতো জোট শরিকদের প্রতি একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

‘সম্মানজনক আসন’ না মেলায় তীব্র ক্ষোভ
তবে, বিহারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে জেএমএম তাদের জোট শরিকদের বিরুদ্ধে ‘ deliberate sidelining’-এর অভিযোগ এনেছে। জেএমএমের বরিষ্ঠ নেতা সুদিব্য কুমার স্পষ্ট অভিযোগ করেন, জেএমএমকে আসন না দিয়ে আরজেডি ও কংগ্রেস একটি “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” করেছে।

জেএমএম নেতাদের মতে, ঝাড়খণ্ডে তাঁরা আরজেডি-কে আসন ছেড়ে দিয়েছেন (২০১৯ সালে ৭টি এবং ২০২৪ সালে আরও ৬টি) এবং আরজেডির মন্ত্রীদের জায়গা করে দিয়েছেন, কিন্তু বিহারে তার কোনো পারস্পরিক সম্মান দেখানো হয়নি।

জেএমএমের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল যে, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে যদি “সম্মানজনক সংখ্যক” আসন না দেওয়া হয়, তবে তাঁরা একাই লড়বে। সেই শর্ত পূরণ না হওয়ায় জেএমএম নির্বাচন থেকে তাঁদের নাম প্রত্যাহার করে নিল।

ঝাড়খণ্ডেও জোট ভাঙার ইঙ্গিত!
জেএমএমের এই সরে আসা শুধু বিহার নির্বাচনের ঠিক আগে বিরোধী শিবিরের সংহতিকেই দুর্বল করল না, এটি ঝাড়খণ্ডেও জোট সমীকরণের সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জেএমএম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বিহারে মহাজোটের জন্য আর সক্রিয়ভাবে প্রচার করবে না। এমনকি, আরজেডি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডে তাদের যে জোট রয়েছে, সেই শর্তগুলিও এখন প্রকাশ্যে পুনর্বিবেচনা করছে জেএমএম।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যেখানে এনডিএ (NDA) ইতিমধ্যেই তাদের আসন ভাগাভাগির চুক্তি চূড়ান্ত করে ফেলেছে, সেখানে মহাজোটের মধ্যে এই তীব্র টানাপোড়েন ভোটারদের মধ্যে জোটের স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।