সোনা-রুপোর দামে আগুন, অলক্ষ্মী তাড়াতে ঝাঁটা ও নুন কেনার হিড়িক

ধন ত্রয়োদশী বা ধনতেরসে শুভ কামনায় মূল্যবান ধাতু কেনার চিরাচরিত রীতি রয়েছে। তবে এই বছর সোনার আকাশছোঁয়া দামের কারণে ধনতেরসের কেনাকাটার চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। মধ্যবিত্ত বাঙালি, যারা গত কয়েক বছর ধরে এই উৎসবে কেনাকাটা শুরু করেছেন, তাঁরা গয়না কেনার সাধ থাকলেও দাম শুনে পিছিয়ে আসছেন। অগত্যা, অনেকে এই দিনে ঝাঁটা বা নুন কিনেই কেনাকাটার আচার পালন করছেন।

এই বছর শনিবার ও রবিবার দু’দিন ধরে পড়েছে ধনতেরসের তিথি। ধনতেরস উপলক্ষে লক্ষ্মী, ধন্বন্তরী এবং ধনসম্পদের দেবতা কুবেরের পুজো করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন বলে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে অনেকে ধনতেরসে ঝাঁটা কেনেন। পাশাপাশি, নুন কিনলে দেবী লক্ষ্মী প্রসন্ন হন এবং অশুভ শক্তি দূর হয় বলে মনে করা হয়।

 

একদিনে সোনার দামে বড় লাফ

 

উৎসবের মরশুম শুরুর আগে থেকেই সোনার দাম বাড়ছিল, কিন্তু গত একদিনে সোনা-রুপোর দামে বড় পরিবর্তন এসেছে।

ধাতু পরিবর্তন নতুন দাম (প্রতি ১০ গ্রাম/কেজি)
২৪ ক্যারেট পাকা সোনা ↑ বাড়ল ₹৩,১৫০ ₹১ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৫০ টাকা (বার)
২২ ক্যারেট গয়নার সোনা ↑ বাড়ল ₹৩,০০০ ₹১ লক্ষ ২৫ হাজার ১০০ টাকা
রুপো (প্রতি কেজি) ↓ কমল ₹২,০৫০ ₹১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭০০ টাকা

(উল্লিখিত দামের সঙ্গে জিএসটি এবং মজুরি যুক্ত হবে)

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সোনা-রুপো কিনতে গিয়ে মধ্যবিত্তের পকেটে যে চাপ পড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।

 

ঝাঁটার দামে আগুন, বিক্রেতার যুক্তি

 

সোনা-রুপোর দামের কারণে ক্রেতারা ঝাঁটা আর নুনের দিকে ঝুঁকতেই বাজারে বেড়েছে ঝাঁটার চাহিদা। তমলুকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিক্রম মজুমদার জানান, “সোনা ও রুপোর দাম অনেকটাই বেড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত মানুষ ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারছেন না।”

অন্যদিকে, পরিতোষ দাস নামে এক ব্যবসায়ী জানান, এ বছর ঝাঁটার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তিনি নানা রকমের ও দামের ঝাঁটা মজুত করেছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা ঝাঁটার দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। যে ঝাঁটা সাধারণত ৫০ বা ৬০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে।