পোলাও, কচি পাঁঠা থেকে পান, জেনেনিন দক্ষিণেশ্বর-কালীঘাটের ভোগে কী কী থাকে?

হাতে খড়্গ, গলায় মুণ্ডমালা আর পদতলে মহাদেব— আদি শক্তি মহামায়ার রুদ্র রূপ দেবী কালীর আরাধনায় সোমবার, ২০ অক্টোবর মেতে উঠবে গোটা বাংলা। কালীপুজোর দিনে বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জাগ্রত মন্দিরেও সাড়ম্বরে পুজো হয়। হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করেন দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট, তারাপীঠের মতো মন্দিরে। এই উপলক্ষে মন্দিরগুলিতে মায়ের ভোগের জন্য থাকে বিশেষ আয়োজন।
জেনে নিন, কালীপুজোর দিনে এই তিন জাগ্রত মন্দিরে মায়ের ভোগের মেনুতে কী কী বিশেষ পদ থাকে:
কালীঘাট মন্দির (সতী পীঠ)
খাস কলকাতার এই সতী পীঠের ভোগের আয়োজনের দায়িত্ব থাকে পালাদারের। কালীপুজোর দিন অমাবস্যা তিথি শুরুর আগেই একপ্রস্থ ভোগ নিবেদন করা হয়।
- দিনের ভোগ (অন্নভোগ): শুক্তো, পাঁচ রকমের ভাজা (আলু, বেগুন, পটল, উচ্ছে, কাঁচকলা), পোলাও, তিন রকমের মাছ (রুই, ইলিশ, চিংড়ি), কচি পাঁঠার মাংস, চাটনি ও পায়েস। শেষ পাতে থাকে পান।
- রাতের ভোগ (নিরামিষ): ময়দার লুচি, খিচুড়ি, তরকারি, কয়েক রকমের ভাজা, রাবড়ি, রসগোল্লা, চাটনি, দই এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি।
দক্ষিণেশ্বর মন্দির (মা ভবতারিণী)
দুপুরের আরতির পর মা ভবতারিণীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। এই মন্দিরে এখন আর বলিদান হয় না, তাই ভোগের পদে মাংসও থাকে না। তবে মাছের পদে বৈচিত্র্য থাকে।
- দুপুরের ভোগ (অন্নভোগ): ভাত ও ঘি, পাঁচ রকমের তরকারি, পাঁচ রকমের ভাজা, রুই, ইলিশ, চিংড়ি সহ মোট পাঁচ রকমের মাছের পদ, চাটনি, পায়েস এবং পাঁচ রকমের মিষ্টি।
- বৈকালি: বিকেলে নিবেদন করা হয় হরেক রকমের ফল।
- রাতের অন্নভোগ (রাত ৯টায়): লুচি, ছানার তরকারি, রাবড়ি সহ পাঁচ রকমের মিষ্টি।
তারাপীঠ মন্দির
মহাসমারোহে কালীপুজো পালিত হয় তারাপীঠে। এখানকার ভোগের পদে নিরামিষ, মাছ ও মাংস সবকিছুরই আয়োজন করা হয়।
- ভোগের মেনু: পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচ মিশালি তরকারি, মাছ, পাঁঠার মাংস, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি।
- বিশেষ পদ: এখানকার ভোগের থালায় পোড়া শোলমাছ মাখাও দেওয়া হয়। এছাড়া, ছোলা, সন্দেশ এবং মিছরির শরবতও মায়ের চরণে নিবেদন করা হয়।