ভারতীয় দলে অল-রাউন্ডারদের ভিড়, তবু কেন বারবার হার? বিশ্বকাপে ‘বোলিং বৈচিত্র্য’ নিয়ে কোচকে চরম বার্তা!

অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেট দলের সাফল্য বিশ্বক্রিকেটে এক উদাহরণ। ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে আর বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনতে তারা যে ‘বিশেষজ্ঞ’-এর বদলে প্রচুর ‘অল-রাউন্ডার’ খেলানোর কৌশল নিয়েছে, তা আজ সর্বজনবিদিত। চলমান আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ ২০২৫-এ সেই একই কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ভারতীয় মহিলা দল।

নিউজ১৮ ক্রিকেটনেক্সট (News18 CricketNext)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের পরবর্তী ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে (১৯ অক্টোবর, দুপুর ৩টে) ম্যাচের আগে এই বিষয়ে মুখ খুললেন ইংল্যান্ড পুরুষ দলের প্রাক্তন অধিনায়ক নাসের হুসেন (Nasser Hussain)। তাঁর মতে, ভারতকে এই কৌশল নিয়ে ‘অত্যন্ত সতর্ক’ থাকতে হবে।

কৌশলগত নকলের ফল:

শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দু’টি সহজ জয়ের পর ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরপর দু’টি কঠিন ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩৩০ রান করেও জয় আসেনি, যার প্রধান কারণ ছিল বোলিং আক্রমণের ধার কম থাকা। অর্থাৎ, ভারত অস্ট্রেলিয়ার মতো খেলতে গিয়ে, দু’দলের মধ্যে পার্থক্যটা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ভারত যেখানে সাত নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে খেলত, সেখানে এখন তারা এমন দল যেখানে শেষ দুইজন বাদে প্রায় সবাই বড় শট খেলতে সক্ষম। কিন্তু এতেও বোলিং আক্রমণের দুর্বলতা ঢাকা পড়ছে না।

নাসের হুসেনের সতর্কবাণী:

ভারতীয় দলের এই ‘অল-রাউন্ডার’-নির্ভরতা নিয়ে হুসেন বলেন, “আপনাকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। এটা টুর্নামেন্টের স্পষ্ট ট্রেন্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তুলনা করার সময় সতর্ক হতে হবে, কারণ তাদের একঝাঁক খেলোয়াড় (অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, অ্যাশ গার্ডনার, এলিস পেরি) প্রকৃত অল-রাউন্ডার। তারা শুধু ব্যাটার বা শুধু বোলার হিসেবেও দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।”

হুসেনের মতে, ভারতকে এই পথে সফল হতে গেলে, প্রতিটা ক্রিকেটারের মধ্যে দুটি দক্ষতা থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন, “আপনাকে দলে জায়গা করে নিতে গেলে দুটি ডিসিপ্লিন জানতে হবে। আপনি শুধু ভালো ব্যাটার বা শুধু ভালো বোলার হতে পারবেন না, আপনাকে ভালো ব্যাটার এবং ফিল্ডার অথবা ব্যাটার ও বোলার হতে হবে।”

ভারতের সামনে ‘দ্বিধা’: অতিরিক্ত বোলার নাকি অতিরিক্ত ব্যাটার?

ভারত বর্তমানে হরলীন দেওলের জায়গায় রেনুকা ঠাকুরকে খেলিয়ে একজন অতিরিক্ত স্পেশালিস্ট বোলারকে দলে ফেরাবে, নাকি এই ‘অল-রাউন্ডার’ কৌশল নিয়েই এগিয়ে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিধা।

যদিও নাসের হুসেন মনে করেন, ভারত এই কৌশলগত পরিবর্তন থেকে খুব বেশি দূরে নেই। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “প্রথম ম্যাচে শ্রীদেবী, অমনজ্যোৎ, স্নেহ রানা (Deepti, Amanjot, Sneh Rana)-কে দেখুন—এরা আমার মতে সত্যিকারের অল-রাউন্ডার। আমার মনে হয়, ভারত খুব বেশি পিছিয়ে নেই।”

তবে, হুসেনের চূড়ান্ত বার্তা হলো: যদি ভারত ব্যাটিং গভীরতা নিয়েই খেলতে চায়, তবে তাদের ‘ভয়হীন’ (Fearless) হতে হবে। তিনি সরাসরি বলেন, “যদি তারা অতিরিক্ত ব্যাটার নিয়ে খেলে, তবে তাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে একটি ‘এবাভ-পার স্কোর’ (Above-par Score) গড়তে হবে, যাতে বোলাররা ডিফেন্ড করার সুযোগ পায়। যদি আমাকে একটা জিনিস পাল্টাতে বলা হয়, তবে বলব—যদি অতিরিক্ত ব্যাটার খেলাও, তবে আরও আগ্রাসী হও।”

গুরুত্বপূর্ণ ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে ভারতীয় দলকে এই দুটি কঠিন কৌশলের মধ্যে একটিকে বেছে নিয়ে তাতে অবিচল থাকতে হবে—কারণ ভারসাম্যের খোঁজ করতে গিয়ে আরও সমস্যা বাড়তে পারে।