মেহুল চোকসিকে প্রত্যর্পণের অনুমতি বেলজিয়ামের, শুরু ভারতে ফেরানোর তোড়জোড়

দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কিং কেলেঙ্কারি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত পলাতক হীরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসিকে ভারতে প্রত্যর্পণের অনুমোদন দিল বেলজিয়ামের আদালত। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চোকসির গ্রেফতারি যে বৈধ ছিল, সেই নির্দেশও বহাল রেখেছে বেলজিয়ান কোর্ট। এই রায়ের ফলে ১৩ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে অভিযুক্ত চোকসির ভারতে ফেরা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৮ সালের শুরুতে ভারত থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন মেহুল চোকসি। কিন্তু সম্প্রতি বেলজিয়াম আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়ায় প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেল।
বেলজিয়ামের আদালত চোকসির বিপক্ষে রায় দেওয়ার প্রধান কারণ হলো— ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে তার বিরুদ্ধে আনা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, প্রমাণ নষ্ট করা এবং দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ বেলজিয়ামের আইনেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালত মনে করেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ‘দ্বৈত অপরাধের’ শর্ত চোকসি পূরণ করেছেন। আদালত আরও মনে করে, চোকসি পুনরায় পালিয়ে যেতে পারে, তাই তার গ্রেফতারির বৈধতাও বহাল রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এখনই চোকসিকে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ, বেলজিয়ামের আদালত জানিয়েছে, চোকসি এখনও উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন। এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে আজকের এই রায়ের মাধ্যমে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিশ্চিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।
ভারত সরকার বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষকে আস্বস্ত করেছে যে, চোকসিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে তাঁর প্রতি মানবিক আচরণ করা হবে। তাকে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের ১২ ব্যারাকে রাখা হবে। এই সেলে ইউরোপীয় মানবাধিকারের সমস্ত মান মেনে চলা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে বিশুদ্ধ জল, খাবার, সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। তাকে কোনোভাবেই নির্জন কারাগারে রাখা হবে না।
উল্লেখ্য, ভারতীয় প্রশাসনের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল মেহুল চোকসিকে গ্রেফতার করে বেলজিয়ামের পুলিশ। সেই থেকে একাধিক জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় তিনি জেলেই আছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ২০১, ৪০৯, ৪২০, এবং ৪৭৭এ ধারা সহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে চোকসির বিরুদ্ধে মামলা চলছে।