বারাসাত কালীপুজো, ভিড় সামলাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ! ‘নো এন্ট্রি’ রোডের বাসিন্দাদের জন্য লাগবে আধার কার্ড

আর মাত্র দু-তিন দিনের অপেক্ষা। তারপরই আলোর উৎসবে ভাসবে গোটা দেশ, আর শ্যামা মায়ের আরাধনায় মেতে উঠবে বঙ্গবাসী। আগামী সোমবার কালীপুজো ও দীপাবলি উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত শহর এখন থেকেই আলোর রোশনাইতে ঝলমল করছে। বারাসাত-মধ্যমগ্রামের কালীপুজোর খ্যাতি গোটা বাংলাজুড়ে। এই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় সুষ্ঠুভাবে সামাল দিতে এবার একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বারাসাত পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের বিশেষ পদক্ষেপ ও কড়াকড়ি
বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝারখারিয়া জানিয়েছেন, দীপাবলির এই ক’টা দিন ট্র্যাফিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। অন্যান্য বছরের মতোই ট্র্যাফিক ব্যবস্থা বহাল থাকছে, তবে পরিস্থিতি বুঝে কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস এবং এসডিপিও বারাসাত বিদ্যাগর অজিনকা অনান্ত।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া মূল সিদ্ধান্তগুলি নিম্নরূপ:
১. আধার কার্ড আবশ্যক: যেসব রাস্তায় কালীপুজো উপলক্ষে ‘নো এন্ট্রি’ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে প্রবেশ করার সময় পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড দেখাতে হবে। তবেই পুলিশ তাদের প্রবেশে ছাড় দেবে।
২. ট্র্যাফিক বিধিনিষেধ: ১৯ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ৪টে থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত ট্র্যাফিকের বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সময়সীমা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. পার্কিং জোন: পার্কিং জোনে শুধুমাত্র ২ চাকার গাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
৪. কঠোর নজরদারি: গোটা শহর জুড়ে দুপুর ৩টে থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পুলিশি নজরদারি থাকবে।
মণ্ডপের ভিড় জানতে নতুন ওয়েবসাইট
দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বারাসাত পুলিশ প্রশাসন এবার একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছে: kalipujabarasat.in।
এই ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীরা পাবেন:
কোথায় পার্কিং জোন রয়েছে।
কোন রাস্তাগুলিতে ‘নো এন্ট্রি’।
কোন পুজো মণ্ডপে কত ভিড় রয়েছে তার হালহকিত (লাইভ আপডেট)।
সহজে পুজো মণ্ডপে পৌঁছনোর রুট ম্যাপ।
জরুরী সমস্যায় পড়লে পুলিশের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের যাবতীয় তথ্য।
এছাড়াও, বারাসত রেল স্টেশন থেকে ডাকবাংলো মোড়, কলোনী মোড়, হেলাবটতলা, বারাসাত চাঁপাডালি মোড়, মধ্যমগ্রাম চৌমাথা সহ মোট ১০টি ডিসপ্লে বোর্ড রাস্তায় বসানো হচ্ছে। গোটা শহরকে মুড়ে ফেলা হচ্ছে শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরায়।
তবে যেসব পুজো উদ্যোক্তা বারবার বলার পরও জাতীয় সড়কে গেট তৈরি করেছেন, তাদের ওই গেট নিয়ে কোনো সমস্যা হলে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব উদ্যোক্তাদের নিতে হবে এবং পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে।