‘রাহুল গান্ধীর ঠাকুরমার বাবার সময় শুরু’! SIR নিয়ে মমতা-রাহুলকে একযোগে আক্রমণ করলেন শাহ, সামনে এল আসল কারণ

আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (Special Intensive Revision বা SIR) হবে কি না, এই নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং শাসকদল তৃণমূলের লাগাতার আক্রমণের আবহে এবার ‘আজ তক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি।
বাংলার এসআইআর (SIR) নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শাহ স্পষ্ট জানান যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গেও সম্পন্ন হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বিহারের উদাহরণ তুলে ধরেন।
মমতার ‘এনআরসি’ চক্রান্তের হুঁশিয়ারি, শাহের পাল্টা জবাব:
কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় এসআইআর নিয়ে অমিত শাহকে সরাসরি নিশানা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বাংলায় এসআইআর-এর ভাবনা আসলে শাহের ‘খেলা’ এবং এটি এসআইআর-কে হাতিয়ার করে ‘এনআরসি (NRC) করার চক্রান্ত’ করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বৈধ ভোটার বাদ গেলে বাংলার মানুষ ছেড়ে কথা বলবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিহারে অনেকে একই কথা বলেছিলেন। সেখানে সবাই নথি জমা দিয়েছে। এবং নির্বাচনও হবে। বাংলাতেও তাই হবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমেই তিনি কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন যে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা হবেই।
রাহুল গান্ধীকে টেনে এনে ইতিহাস স্মরণ করালেন শাহ:
এসআইআর নিয়ে সরব হওয়ার জন্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণ করেন শাহ। তিনি রাহুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “দেশে এই প্রথম এসআইআর হচ্ছে না। ১৯৫৩ সালে এটা শুরু হয়। অর্থাৎ রাহুল গান্ধীর ঠাকুরমার বাবার সময়ে এটা হয়েছে। এটা তাঁর ঠাকুরমার সময়ে হয়েছে। তাঁর বাবার সময়ে হয়েছে। তাঁর মায়ের সময়েও হয়েছে। এই সত্যটা হয়তো রাহুলকে কেউ বলেননি।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্যই এসআইআর করা হয়। ১০, ১২ কিংবা ১৭ বছর পর অনেক ভোটারের হয়তো মৃত্যু হয়েছে বা কাজের জন্য অনেকে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তির কারণ কী?
এসআইআর নিয়ে বিরোধী জোটের সরব হওয়ার আসল কারণ নিয়েও মুখ খোলেন শাহ। তিনি দাবি করেন, “ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব পড়বে বলেই বিরোধীরা সরব হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায়। সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, নির্বাচনী জালিয়াতি রোধ এবং অনুপ্রবেশকারী, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই প্রক্রিয়া জরুরি।