“যে BJP অতীতে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন চাইত, তারাই এখন উল্টো কথা বলছে”-জেনেনিন কেন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বারবার ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ (President’s Rule) জারি করার দাবি তুলে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি যে সুর তুলেছিল, হঠাৎই তা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল। দলের বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। বাগডোগরায় শুভেন্দু দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়াই আগামীতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসতে পারে। বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার জল্পনা— হঠাৎ কেন অবস্থান বদল করল গেরুয়া শিবির?

শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই দিন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার জন্য বিজেপির রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার কোনো প্রয়োজন নেই। রাজ্যের মানুষই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে।”

অর্থাৎ, তাঁর বার্তা খুবই স্পষ্ট— বিজেপি এখন আর দিল্লি থেকে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার অপেক্ষায় নেই। বরং নিজের পায়ে ভর করে, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে গণতান্ত্রিক পথে ভোটে জিতে আসার ক্ষমতা রাখে।

কেন হঠাৎ এই ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি দলের বর্তমান কৌশলগত ভাবনাকেই প্রতিফলিত করছে। প্রশ্ন উঠছে, যে বিজেপি ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের ভোটের আগেও বঙ্গে বারবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পক্ষে সওয়াল করেছে, তারা এখন কেন এমন উল্টো কথা বলছে? এর পেছনে দুটি মূল কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা:

১. SIR-এর ‘অস্ত্র’ ও ভোটব্যাঙ্কে আঘাত: বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর ফলে অনুপ্রবেশকারী মুসলিম এবং রোহিঙ্গাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের দাবি, এতে ১ থেকে ১.২ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। এই ‘অবৈধ ভোটার’রাই মূলত তৃণমূলের ‘রসদ’ এবং এদের জোরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট জেতেন। এই ভোটব্যাঙ্কে যদি আঘাত আসে, তাহলে বিজেপি ভোট যুদ্ধে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। তাই গেরুয়া শিবির এখন আর রাষ্ট্রপতি শাসন চাপাতে চাইছে না।

২. ‘সিমপ্যাথি ভোট’ এড়ানোর কৌশল: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ মনে করছে, বিজেপি এটা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে মানুষের নির্বাচিত সরকার চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে সাধারণ মানুষ তা ভালোভাবে নাও নিতে পারে। এর ফলে তৃণমূলের প্রতি ‘সিমপ্যাথি’ বা সহানুভূতির ঢেউ উঠতে পারে, যা তাদের ভোট বাড়িয়ে দেবে। এমনকি বিজেপি সমর্থকরাও রেগে গিয়ে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে পারে। এমনটা হোক চাইছে না বিজেপি। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঝুঁকি এড়াতে আপাতত রাষ্ট্রপতি শাসন না চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেরুয়া শিবির।