পরীক্ষা স্থগিত করতে প্রিন্সিপালের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়াল ২ ছাত্র, চাঞ্চল্য ঘটনায়

কলেজের পরীক্ষা বাতিল করার জন্য এক জঘন্য ও অভিনব কৌশল অবলম্বন করল দুই ছাত্র। অধ্যক্ষের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দেওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। এই ঘটনাটি ঘটেছে হোলকার সায়েন্স কলেজে। অভিযুক্ত কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের তৃতীয় সেমিস্টারের দুই ছাত্র কলেজের প্রিন্সিপাল ডঃ অনামিকা জৈনের আকস্মিক মৃত্যুর দাবি করে একটি জাল চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করেছে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই ছাত্র অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কলেজের অফিসিয়াল লেটারহেড কপি করে একটি জাল চিঠি তৈরি করে। সেই চিঠিতে অধ্যক্ষ ডঃ অনামিকা জৈনের ‘আকস্মিক মৃত্যুর’ কারণ দেখিয়ে ১৫ এবং ১৬ অক্টোবরের অনলাইন পরীক্ষা এবং ক্লাস স্থগিত রাখার ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষা বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই পড়ুয়ারা গত ১৪ অক্টোবর দ্রুত এই ভুয়ো চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।

জীবিত অবস্থাতেই নিজের মৃত্যুর খবর পেয়ে গভীর আঘাত পেয়েছেন অধ্যক্ষ অনামিকা জৈন। তিনি জানিয়েছেন, এই ভুয়ো খবর তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ভীষণভাবে মর্মাহত করেছে। এমনকি অনেকে তাঁর বাড়িতেও শোকপ্রকাশ করতে চলে এসেছিলেন।

এফআইআর এবং ৬০ দিনের সাসপেন্ড

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অধ্যক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ভানওয়ারকুয়ান থানায় দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোষ প্রমাণ হলে তাদের তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

অধ্যক্ষ ডঃ জৈন আরও জানিয়েছেন, উভয় ছাত্রই লিখিতভাবে তাদের ভুল স্বীকার করেছে। এরপরেই কলেজের শৃঙ্খলা কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে উভয় ছাত্রকেই ৬০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডঃ জৈন দাবি করেছেন, কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে হয়রানি করে আসছে, যদিও তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। উল্লেখ্য, ১৮৯১ সালে ইন্দোরের তৎকালীন শাসক শিবাজি রাও হোলকার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই হোলকার বিজ্ঞান কলেজ মধ্য ভারতের অন্যতম প্রাচীন সায়েন্স কলেজ। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৫,০০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করেন।