‘উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন, না জেলে যাবেন?’: শিবকুমারকে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিল BJP, ফাঁস করলেন কর্ণাটকের ‘ট্রাবলশুটার’

বিহার নির্বাচনের পর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ডিকে শিবকুমার বসবেন কিনা, তা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। ২০১৮ সালে জেডি(এস)-কংগ্রেস জোট সরকার চলার সময় তাকে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে তাকে নিয়ে লেখা একটি বই— ‘আ সিম্বল অফ লয়্যালটি- ডিকে শিবকুমার’ প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই ‘বোমা’ ফাটান কংগ্রেসের এই ‘ট্রাবলশুটার’ নেতা। শিবকুমার জানান, এই প্রস্তাব তার কাছে এসেছিল এক আয়কর নিরীক্ষকের মাধ্যমে।

“উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন, না জেলে যাবেন?”

২০১৮ সালের জোট সরকারের সময়ের কথা উল্লেখ করে শিবকুমার বলেন, “সেই সময় প্রায় ১০ জন কংগ্রেস বিধায়ক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। আমি আমার বাড়ি কনকপুরা থেকে ছুটে গিয়ে তাদের আটকেছিলাম। সেই দিন, যখন আমি আমার ভাই ডিকে সুরেশের সঙ্গে ছিলাম, তখন আমার কাছে এই ফোনটি আসে। সেই নিরীক্ষক আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি উপমুখ্যমন্ত্রী হতে চাই, নাকি জেলে যেতে প্রস্তুত?”

এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কী বলেছিলেন, তা জানিয়ে শিবকুমার বলেন, “আমি পরেরটি বেছে নিয়েছিলাম।”

আদর্শে অবিচল: রাজীব গান্ধীর কথা মনে করিয়ে দিলেন ‘ডিকেএস’

শিবকুমার আরও বলেন, “আমি সেই নিরীক্ষককে বলেছিলাম যে রাজীব গান্ধী আমাকে টিকিট দিয়েছিলেন এবং বঙ্গারাপ্পা আমাকে মন্ত্রী হতে সাহায্য করেছিলেন। আটবার জেতার পর আমি উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। আমার বয়স এখন ৬৩, আমি জানি না আর কতদিন রাজনীতিতে থাকব। তরুণদের জন্যও পথ তৈরি করে দিতে হবে। আমি রাজীব গান্ধী যা বলতেন, তাতে বিশ্বাস করি। অনুসরণকারী তৈরি কোরো না, নেতা তৈরি কোরো।”

এরপরই তিহার জেলে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এরপর আমাকে তিহার জেলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আমার লক্ষ লক্ষ শুভানুধ্যায়ীর আশীর্বাদ আমার সঙ্গে ছিল এবং সেটাই আমাকে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে।”

রাজনীতিতে তার বেশিরভাগ লড়াই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া এবং তার ছেলে এইচ ডি কুমারস্বামীর বিরুদ্ধে হলেও, দল যখন চেয়েছে তখন তিনি তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বলেও জানান ডিকে শিবকুমার।

তাকে নিয়ে লেখা বইটিতে ৯৯% তথ্য সঠিক বলে দাবি করেছেন শিবকুমার। আরএসএস (RSS) সম্পর্কে তার মন্তব্যের জেরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি জানান, ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতায় বেড়ে ওঠার কারণেই তিনি বলেছিলেন যে তিনি আরএসএস সম্পর্কেও জানেন। তবে অনুগামীদের অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাননি বলেই স্বেচ্ছায় ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন।