‘ওষুধ খাইয়ে গর্ভস্থ সন্তানকে হত্যা!’ সাত মাসের মৃত শিশুর দেহ মাটি খুঁড়ে তুলল পুলিশ, হাড়হিম করা অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় ফের নড়েচড়ে বসেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার হিঙ্গলগঞ্জ। প্রায় ১৮ মাস আগে মাটিতে পুঁতে দেওয়া সাত মাসের মৃত শিশুর দেহ শুক্রবার আদালতের নির্দেশে তোলা হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
ঘটনাটি হিঙ্গলগঞ্জের ভেটকিয়া এলাকার বাসিন্দা রেশমা খাতুনের। রেশমার অভিযোগ, বিবাহের পর থেকেই তাঁর স্বামী জামিরুল গাজী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁর ওপর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত।
ভেটকিয়ার জামিরুল গাজীর সঙ্গে রেশমার বিয়ে হয়। বিয়ের সময়ই জামিরুলের পরিবার পণ হিসেবে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। তাঁদের এক কন্যাসন্তানও ছিল। এর কিছুদিন পর জামিরুলের চাকরির সুযোগ আসে, যার জন্য সে রেশমার বাবার কাছে অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। অভাবের সংসারে রেশমার বাবা সেই টাকা জোগাড় করতে দেরি করতে থাকেন।
এই সুযোগে জামিরুল রেশমার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে বলে অভিযোগ। মেয়েকে বাঁচাতে শেষমেশ রেশমার বাবা ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা জামিরুলকে দিলেও নির্যাতন থামেনি।
অভিযোগ, সেই সময়ে রেশমা যখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন জামিরুল ও তাঁর পরিবার তাঁকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভস্থ সন্তানকে মেরে ফেলে এবং সেই মৃত শিশুকে গর্ভপাত করিয়ে বাড়ির আঙিনায় মাটিতে পুঁতে দেয়।
এর পরেও রেশমার ওপর অত্যাচার থামেনি। একদিন তাঁকে মারধর করে রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সাহায্যে তিনি বাবার বাড়িতে ফেরেন। এরপরই রেশমা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে সন্তান হত্যা ও গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগে হিঙ্গলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি জামিরুল গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতের নির্দেশেই শুক্রবার হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ সেই মাটি খুঁড়ে মৃত শিশুটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।