যুদ্ধ কি এবার শেষ হবে? জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে হঠাৎ কেন পুতিনকে ফোন করলেন ট্রাম্প?

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফরের ঠিক একদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘দীর্ঘ’ ফোনালাপ সারলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এই ফোনালাপের সময় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ইউক্রেন যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটনের কাছে আরও সামরিক সমর্থনের জন্য চাপ দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প।

ফোনালাপের বার্তা ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ
বৃহস্পতিবার, মার্কিন সময় সকাল ১১টা ২১ মিনিটে (ET) ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই ফোনালাপের খবর নিশ্চিত করেন।

ট্রাম্প লেখেন, “আমি এখন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলছি। কথোপকথনটি দীর্ঘ এবং চলছে। এটি শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং আমি এর বিষয়বস্তু জানাব। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!”

প্রেক্ষাপট: জেলেনস্কির হোয়াইট হাউজ সফর ও টমাহক জল্পনা
এই ফোনালাপের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শুক্রবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সামরিক সহায়তা, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পথ নিয়ে আলোচনা করাই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মস্কোর প্রতি কখনও কঠোর হুঁশিয়ারি, আবার কখনও নরম সুর বজায় রেখেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া যদি আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে, তবে তিনি ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র (Tomahawk missiles) পাঠানোর কথা বিবেচনা করবেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও গভীরে আঘাত হানার ক্ষমতা দেবে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পা দেওয়ার মুখে, এমন সময়ে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্বের দুই প্রধান শক্তিধর নেতার মধ্যে ভারসাম্যের এক নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প কি ইউক্রেনের জন্য কঠিন সামরিক পদক্ষেপের রাস্তা খুলবেন, নাকি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার পুরনো পথেই ফিরবেন।