দূষণের মাঝেও বাজির অনুমতি! দিল্লি-NCR-এ এই তারিখগুলিতেই মিলবে ‘সবুজ বাজি’র ছাড়পত্র, কেন এমন রায় আদালতের?

জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (NCR)-এর বায়ুর গুণমান নিয়ে যখন উদ্বেগ তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি এবং সংলগ্ন NCR অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সবুজ বাজি (Green Crackers) বিক্রি ও ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এই অঞ্চলে সবুজ বাজি ব্যবহার করা যাবে।

আদালতের ‘ভারসাম্যের’ নীতি:
বিচারপতিদের বেঞ্চ এই রায়ে **’ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা’**র ওপর জোর দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসব উদযাপন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

বেঞ্চের মন্তব্য ছিল, “আমাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশের সঙ্গে আপস না করে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সবুজ বাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হল।”

দূষণের উদ্বেগের মাঝে রায়:
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন দিল্লির বাতাসের গুণমান অত্যন্ত খারাপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নিরাপদ মাত্রার চেয়ে এই দূষণ ২৫ থেকে ৩০ গুণ বেশি। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালেই শহরের বেশিরভাগ অংশে PM2.5-এর মাত্রা ৩০০ থেকে ৪০০-এর মধ্যে ছিল, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।

দীপাবলির মরসুমে বাজি ফাটানোর কারণে প্রতি বছরই বাতাসের গুণমান আরও খারাপ হয়। এই আবহে, আদালত কেবল ‘সবুজ বাজি’ ব্যবহারের অনুমতি দিল।

কৌতূহলী প্রশ্ন: বাজি এল কোথা থেকে?
বাজির ইতিহাস কিন্তু দীপাবলির থেকেও প্রাচীন।

চীনের আবিষ্কার: ইতিহাসবিদদের মতে, বাজির উৎস প্রাচীন চীনে। প্রথমে বাঁশ আগুনে দিলে তার ভেতরের বাতাস গরম হয়ে বিস্ফোরণ ঘটাত, যা ছিল বাজির আদি রূপ।

বারুদের উদ্ভাবন: নবম শতাব্দীতে চীনা রসায়নবিদরা সল্টপিটার, সালফার ও কাঠকয়লার মিশ্রণে বারুদ (Gunpowder) আবিষ্কার করেন, যা আধুনিক বাজির পথ প্রশস্ত করে।

ভারতে আগমন: মনে করা হয়, মধ্যযুগে বাণিজ্যের মাধ্যমে বাজি ভারতে আসে। কিছু সূত্র ১৩শ শতাব্দী, আবার কিছু সূত্র ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে চিনা আতশবাজির জ্ঞান ভারতে পৌঁছানোর কথা বলে।

রাজদরবার থেকে দীপাবলি: প্রাথমিকভাবে দিল্লি সুলতানি ও মুঘল আমলে উৎসব, বিবাহ বা বিজয়ের অনুষ্ঠানে রাজদরবারে বাজির ব্যবহার শুরু হয়। ১৬শ থেকে ১৭শ শতাব্দীর মধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যেও দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর চল শুরু হয়।