‘ওঁর কোনও দেশ ছিল না, কোনও জাতি ছিল না’! জুবিন গর্গের স্মরণসভায় আবেগঘন বন্ধু ও সহকর্মীরা

বাংলা এবং হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গ এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি শুধু তাঁর গান দিয়ে নয়, বরং মানবিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা দিয়েও অসমবাসীর হৃদয়ে ‘আত্মার আত্মীয়’ হয়ে উঠেছিলেন। এই কিংবদন্তী শিল্পীকে স্মরণ করতে সম্প্রতি কলকাতায় একটি স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

গায়িকা, অভিনেত্রী তথা বর্ষা এন্টারটেনমেন্টের প্রযোজক বর্ষা সেনগুপ্তের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক শ্রী প্রীতম, অভিনেতা দেবদূত ঘোষ, জুবিনের ৩০ বছরের বন্ধু সাউন্ড ডিজাইনার দিগন্ত শর্মা এবং বন্ধু লিটন-সহ আরও অনেকে।

‘রক্তাক্ত দেহ তুলে হাসপাতালে নিয়েছিলেন’

স্মরণ সভায় জুবিন গর্গের অসামান্য মানবিকতার দিকটি তুলে ধরেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুরা। বন্ধু লিটন বলেন, “জুবিনকে আমি একেবারে অন্যভাবে দেখেছি, যেটা অনেকেই দেখেনি। একবার একটা শো করে ফেরার সময় রাস্তায় একটা মেয়ের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সেই রক্তাক্ত দেহ কোলে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান। সাধারণত কেউ বডি ধরতে চায় না, কিন্তু জুবিনের মাথায় ওইসব কাজ করত না। কার মায়ের খারাপ অবস্থা, কে টাকার অভাবে স্কুলে যেতে পারছে না—সব দিকেই ছিল ওর খেয়াল। চিরকাল মানুষের সেবা করতে চেয়েছে।”

অভিনেতা দেবদূত ঘোষ জুবিনের এই মানবিক দিকটিকেই তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জুবিনের শবযাত্রা প্রমাণ করে দিয়েছে যে উনি কত মানুষের প্রিয় ছিলেন। এই জায়গাটা শুধু গান গেয়ে তৈরি করেননি জুবিন। মানুষের জন্য চিন্তা, মানুষের বিপদে-আপদে ঝাঁপিয়ে পড়া সব দিয়েই তৈরি করেন জুবিন।” তিনি আরও বলেন, জুবিন বলতেন, ‘আমার কোনও দেশ নেই, কোনও জাতি নেই’—তাঁর এই খোলা মনের বামপন্থী মনোভাব দেবদূতের শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়েছিল।

মৃত্যু নিয়ে রহস্য ও বিচারের দাবি

স্মরণ সভায় জুবিনের বিতর্কিত মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠে আসে। এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল যে তাঁর কাছের মানুষরাই নাকি তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী। এই বিষয়ে বন্ধু লিটন বলেন, “এই দিকটা নিয়ে আমি কিছু বলব না। এটা সরকার দেখছে, এসআইটি দেখছে। আমি শুধু বিচার চাই বন্ধুর মৃত্যুর।” লিটনের প্রশ্ন, ডাক্তার তাঁকে আগুন আর জলের কাছে যেতে বারণ করা সত্ত্বেও কেন তাঁকে সেদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?

স্মরণ সভার আয়োজক বর্ষা সেনগুপ্ত জুবিনের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, কলকাতায় শো করতে এসে জুবিন দা কীভাবে তাঁদের আপ্যায়ন করেছিলেন। এমনকি ট্যাটু করতে ভয় পান শুনে জুবিন দা তাঁকে অভয় দিয়েছিলেন।

উপস্থিত সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেন, জুবিন গর্গকে গান এবং মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার জন্য প্রজন্ম দীর্ঘদিন মনে রাখবে।