‘কমিশন যতই নাম বাদ দিক, তৃণমূলের আসন একটা হলেও বাড়বে’! SIR নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন অভিষেক, নভেম্বরে শহিদ মিনারে সভা

বিহারের পর এবার বাংলাতেও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (SIR) শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি যখন এই সমীক্ষার পক্ষে জোরদার সওয়াল করছে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এসআইআর করে কমিশন যতই নাম বাদ দিক, তৃণমূলের আসন একটাও কমবে না, বরং বাড়বে।

নভেম্বরে শহিদ মিনারে সভা

এসআইআর-এর প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী নভেম্বরে শহিদ মিনারে একটি বড় সভা করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

সভার দিনক্ষণ: দলীয় সূত্রে খবর, সভার দিন ঠিক হতে পারে ১৬ বা ১৭ নভেম্বর। যদিও প্রাথমিকভাবে ২ নভেম্বর সভার পরিকল্পনা থাকলেও অন্য একটি অনুষ্ঠানের কারণে তা বাতিল করা হয়।

বক্তা: এই সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকতে পারেন। অভিষেক ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি সভায় থাকবেন এবং এসআইআর নিয়ে দলের অবস্থান সোজাসুজি জানাবেন জনতার সামনে।

সাংগঠনিক শক্তিতে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক

বৃহস্পতিবার বিজয়া সম্মিলনীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, “কমিশন যতই নাম বাদ দিক, তৃণমূলের আসন একটা হলেও বাড়বে। বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, ভোটের ব্যবধান ৭ থেকে ৭.৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে।”

দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ডের’ দাবি, বিজেপি এক-আধ শতাংশ ভোট বাড়ালেও সেই বৃদ্ধি আসবে বামেদের ভোট ভাঙিয়ে। তাঁর মতে, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া আমাদের জন্য বড় সমস্যা নয়। কারণ তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিই আমাদের আসল অস্ত্র।”

জোট ও মেরুকরণ প্রসঙ্গে অবস্থান

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।

বিধানসভায় জোট: তিনি জানান, “বিধানসভায় কোনও জোটের প্রয়োজন নেই। কংগ্রেস প্রস্তাব দিলেও গ্রহণ করার মতো কারণ দেখছি না।”

প্রার্থী হওয়া: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “দলই সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত সংসদেই আমি সক্রিয় থাকতে চাই, কারণ আগামী তিন-চার বছর সংসদ খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

অভিষেকের মতে, বিজেপি এসআইআর-এর মতো বিষয়কেও মেরুকরণের হাতিয়ার করতে চাইছে। কিন্তু তৃণমূল মানুষকে পাশে নিয়েই রাজপথে লড়াই করবে। তাঁর বিশ্বাস, ২০২৬ সালের ভোটে জনগণের রায় আবারও তৃণমূলের পক্ষেই থাকবে। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে থাকা প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার মৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে তৃণমূলের আসন সংখ্যায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।