‘রাজ্যের কোনও সদিচ্ছা নেই’! বাজি মামলায় হাইকোর্টের কড়া মন্তব্য, অবৈধ বাজি তৈরি ও বিক্রি নিয়ে রিপোর্ট তলব

কালীপুজো ও দীপাবলির আগে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাজি তৈরি ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ করেছে, বৃহস্পতিবার সেই রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। পরিবেশকর্মীদের সংগঠন সবুজ মঞ্চের করা একটি মামলায় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ:
শুনানিতে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু রাজ্যের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন:
“রাজ্যের নিষ্ক্রিয়তা দেখে মনে হচ্ছে রাজ্যের কোনও সদিচ্ছা নেই এই সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের পূর্বের নির্দেশিকা কার্যকর করার। সব সক্রিয়তা শুধু কাগজে কলমে। বাস্তবে কিছুই হয়নি, এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।”
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, বৈধ সবুজ বাজি তৈরি ব্যতীত অননুমোদিত বাজি তৈরি ও বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেই বিষয়ে প্রশাসন নিজেরাই অন্ধকারে।
রিপোর্ট তলব:
হাইকোর্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে কালীপুজো ও দীপাবলির আগে ও পরের বাতাসে দূষণের মাত্রা সংক্রান্ত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধ বাজি তৈরি ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য প্রশাসন সহযোগিতা করেছে কি না, তাও রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
মামলাকারীর অভিযোগ:
মামলাকারী সংস্থা সবুজ মঞ্চের আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তীর অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিতভাবে সারা রাজ্যেই বাজি বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছে, অথচ অবৈধ বাজি বিক্রি আটকাতে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ করেনি। তিনি অবিলম্বে অননুমোদিত বাজি তৈরি ও বিক্রি বন্ধ করা, গুদামে নিয়মিত তল্লাশি চালানোর এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানান।
রাজ্যের সওয়াল:
রাজ্যের গভর্নমেন্ট প্লিডার অমিতাব্রত রায় আদালতকে জানান, এই বিষয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্যের মুখ্যসচিব প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত সব জেলায় কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুজোর ছুটি শেষে তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশ রাজ্যে অবৈধ বাজি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করল।