অযোধ্যায় ঐতিহাসিক উপহার, দীপাবলির সময় উদ্বোধন হতে চলেছে বিশ্বের প্রথম রামায়ণ থিমের মোমের জাদুঘর

রাম জন্মভূমি চত্বরে বিশাল রাম মন্দির নির্মাণের পর, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবার অযোধ্যাকে আরও একটি ঐতিহাসিক উপহার দিতে চলেছেন। দীপাবলির সময় নবম দীপোৎসবের জাঁকজমকের মধ্যে বিশ্বের প্রথম রামায়ণ থিমের মোমের জাদুঘর উদ্বোধন হতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই জাদুঘরটি বিশ্বাস ও বিশ্ব পর্যটনের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য ও স্থাপত্য:

অবস্থান ও খরচ: চৌদ্দ কোশি পরিক্রমা মার্গে অবস্থিত ৯,৮৫০ বর্গফুট জুড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে।

মোমের মূর্তি: সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই জাদুঘরে রামায়ণের বিভিন্ন চরিত্র, যার মধ্যে ভগবান রামও রয়েছেন, এমন ৫০টি জীবন্ত মোমের মূর্তি রয়েছে।

দৃশ্যপট: দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্য শৈলীতে ডিজাইন করা এই দোতলা জাদুঘরে মহাকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ পর্বগুলো চিত্রিত হয়েছে। নিচতলায় রাম লালার শৈশব থেকে সীতার স্বয়ম্বর এবং প্রথম তলায় বনবাস, লঙ্কা দহন ও রাম-রাবণের যুদ্ধ দেখানো হয়েছে। হনুমানের লঙ্কা দহনের মডেলে থ্রিডি আলোর প্রভাব আসল আগুনের অনুকরণ করে।

বিশেষ আকর্ষণ: ভেতরে দর্শনার্থীরা ত্রেতা যুগের সুগন্ধ এবং ‘রাম তারক মন্ত্র’ ও রাম ভজনের সুরেলা ধ্বনিতে আপ্লুত হবেন। শিশু রামের মূর্তির পাশে একটি বিশেষ সেলফি পয়েন্টও তৈরি করা হয়েছে।

প্রশাসন ও নিরাপত্তা:

পৌর নিগমের সহযোগিতায় পরিচালিত এই জাদুঘরের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌর কমিশনার জয়েন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, জাদুঘরের আয়ের ১২ শতাংশ সরাসরি পৌর নিগমকে দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য, জাদুঘরে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। চারটি জরুরি প্রস্থান পথের সাথে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ২৪x৭ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবে। কেরালার সংস্থা ‘সুনীল ওয়াক্স মিউজিয়াম’ এটি নির্মাণ করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দীপোৎসবের প্রদীপের আলোর মাঝে এই অনন্য সৃষ্টিটি অযোধ্যা এবং বিশ্বের মানুষের কাছে উৎসর্গ করবেন, যা অযোধ্যার অগ্রগতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।