“শাসকের অর্জিত মেদ বর্জন দরকার”, ২৫০ আসন জেতার পূর্বাভাস দিয়েই দলের একাংশকে চরম হুঁশিয়ারি কুণাল ঘোষের

২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় বার্তায় ফের একবার সুর চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন যে তৃণমূল আগামী ভোটে ২৫০টিরও বেশি আসন পাবে, তেমনি দলেরই একাংশের বাড়তে থাকা ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করলেন।

এদিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নেত্রীর প্রতি মানুষের আস্থা, অভিষেকের প্রতি ভালোবাসা দেখে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে যদি দলের একাংশের নেতা, কর্মী রাজনীতির আসল অংশটা থেকে সরে গিয়ে ঔদ্ধত্য ও অন্য কিছু ভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাহলে কিছু মানুষ, এমনকি দলের কর্মীরাও বিরক্ত হতে পারেন।”

তিনি আরও লেখেন, “দলের মধ্যে থেকেই এই বিষয়ে এলাকাভিত্তিতে সতর্ক থাকা দরকার।” অর্থাৎ, অতিরিক্ত রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস যেন দলের ‘অর্গ্যানিক আবেগ ও ভালোবাসা’ নষ্ট না করে, সে বিষয়ে নিজের দলকেই সরাসরি সতর্ক করলেন তিনি। তাঁর মতে, ইগো বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সরিয়ে সঠিকভাবে মানিয়ে নেওয়া এখন জরুরি।

ভোটের পূর্বাভাস দিয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের ফলেই মানুষ তৃণমূলের পাশে আছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ২৫০টিরও বেশি আসন পাওয়ার জায়গায় রয়েছে।”

তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী কাজ করেছেন, করে চলেছেন, নজিরবিহীন উপকার হচ্ছে মানুষের।” যদিও তিনি স্বীকার করেন, “কিছু জায়গায় স্থানীয়স্তরে একটু মেরামতি দরকার। সঠিক লোক চেনা দরকার। ইগো, গোষ্ঠী সরিয়ে মানিয়ে নেওয়া দরকার। শাসকের অর্জিত মেদ বর্জন দরকার।” কুণাল শেষে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অর্গ্যানিক বা স্বাভাবিক আবেগ, উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা বেড়ে চলুক। কৃত্রিম বাতাবরণ বর্জিত থাক।”

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চালু করেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ মিটিং অনুযায়ী, SIR প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ২০২১ সালে ফেব্রুয়ারিতে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছিল এবং এপ্রিলের মধ্যেই ভোট প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল। ২০২৬ সালেও প্রায় একই সময়ে ভোট হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।