ভারত-পাকিস্তানকে গোলাগুলি থামাতে ২০০% ট্যারিফের হুমকি দিয়েছিলেন! দাবি ট্রাম্পের, তবে কি স্মৃতিশক্তি হারাচ্ছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের একবার শিরোনামে, তবে এবার তাঁর বিতর্কিত ‘ট্যারিফ’ নীতির জন্য নয়, বরং ভৌগোলিক বিভ্রান্তির জন্য। তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর শুল্ক নীতিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ প্রতিরোধ করেছে, কিন্তু এই প্রসঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ভারত-কে গুলিয়ে ফেললেন ইরানের সাথে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প তাঁর শুল্ক নীতির জোরালো পক্ষে সওয়াল করেন এবং দাবি করেন, বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে তাঁর এই ট্যারিফ নীতিই প্রধান ভূমিকা নিয়েছে।
ভারত নয়, ইরানকে নিউক্লিয়ার শক্তি বললেন ট্রাম্প
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট যখন পাকিস্তানের সাথে একটি সংঘাতের ঘটনা বর্ণনা করছিলেন, তখনই তিনি ভারত এবং ইরানকে গুলিয়ে ফেলেন।
ট্রাম্প বলেন, “উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনারা পাকিস্তান এবং ইরানকে দেখেন… আমি তাদের বলেছিলাম যে আমি ইরানের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং পাকিস্তানও সেই লাইনে ছিল। তারপর শুনলাম তারা একে অপরের দিকে গুলি চালাচ্ছে। আমি বললাম, ‘আপনারা কি যুদ্ধে যাবেন? দুটো নিউক্লিয়ার পাওয়ার আমরা ভাবছি!'”
তিনি আরও বলেন, তিনি দুই পক্ষকেই সতর্ক করে দেন যে যদি শত্রুতা চলতে থাকে, তবে তিনি “২০০ শতাংশ ট্যারিফ” আরোপ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেবেন। ট্রাম্পের দাবি, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়। সেটা একটা পারমাণবিক যুদ্ধ হতে পারত।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে। সমালোচকদের মতে, তিনি যে ইরানকে পারমাণবিক শক্তি বলে ভুল করেছেন এবং পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের দাবি করেছেন—তা তাঁর জ্ঞানীয় ক্ষমতা (cognitive ability) নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
শরিফের ধন্যবাদ ও শান্তিতে নোবেল প্রস্তাবনা
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সমর্থন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ট্রাম্পের মতে, শেহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে পরমাণু যুদ্ধ আটকাতে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ট্রাম্প জানান, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে উঠে দাঁড়িয়ে খুব সুন্দরভাবে বলেছেন, তিনি বলেন, ‘আপনি লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচিয়েছেন।'”
এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প যোগ করেন, শরিফ মূলত ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতির কথাই বলছিলেন। “তিনি যা বোঝাচ্ছেন তা হল, ভারতের সাথে সেটা একটি নিউক্লিয়ার যুদ্ধ হতে পারত। এটা খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। সাতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল,” ট্রাম্প বলেন।
উল্লেখ্য, শার্ম এল-শেখ-এর গাজা শান্তি শীর্ষ সম্মেলনে শরিফ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের প্রশংসা করে “পারমাণবিক সংঘাত প্রতিরোধের” জন্য তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিলেন।
ট্যারিফ-ই নাকি বিশ্ব শান্তির চাবিকাঠি
হোয়াইট হাউসে তাঁর মন্তব্যের সময়, ট্রাম্প ট্যারিফকে একটি বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা আনার হাতিয়ার হিসাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আটটি যুদ্ধের মধ্যে আমি বলতে পারি, পাঁচ বা ছয়টি যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্যারিফই সরাসরি দায়ী। ট্যারিফ না থাকলে সারা বিশ্বে যুদ্ধ লেগেই থাকত।”
যদিও ট্রাম্পের এই দাবির কোনও স্বাধীন যাচাইকরণ নেই। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সীমান্তে চার দিনের গুলি বিনিময়ের পর ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMOs)-এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি অর্জন করা হয়েছিল।