জনরোষের মুখে পতন! মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্টের পর কারা আছেন এই তালিকায়? এক নজরে ক্ষমতাচ্যুত বিশ্বনেতারা!

অভ্যুত্থান, গণবিপ্লব বা ব্যাপক জনবিক্ষোভের কারণে একসময়কার ‘অজেয়’ বলে পরিচিত বহু রাষ্ট্রনেতা কারাবাস, মৃত্যুদণ্ড বা রাজনৈতিক প্রতিশোধ এড়াতে নিজেদের দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বা আত্মগোপন করেছেন। মাদাগাস্কারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা (Andry Rajoelina) সাম্প্রতিকতম নেতা, যিনি এই তালিকায় নাম লেখালেন।

এ সপ্তাহে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা। দীর্ঘ দিন ধরে চলা ‘জেন জি’-এর নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ—যা দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সুযোগের অভাবে দানা বেঁধেছিল—তার ফলস্বরূপই এই পতন।

একনজরে দেখা যাক, ক্ষমতার মসনদ হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বা পলাতক হয়েছেন এমন কিছু বিশ্বনেতার পরিণতি।

১. বাশার আল-আসাদ (Bashar Assad): সিরিয়া
বছরের পর বছর গৃহযুদ্ধের পর ২০২৪ সালে বিদ্রোহীরা রাজধানী দামাস্কাসের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে সিরিয়ার সাবেক নেতা বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান।

আসাদের মিত্র রাশিয়া এবং ইরান বহু বছর ধরে তাঁকে ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে সমর্থন যুগিয়েছিল। বিরোধীরা পুরো দেশ দখল করে নিলে, তিনি মস্কোয় পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় তাঁর পরিবারের ৫২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

২. শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina): বাংলাদেশ
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস অনুমান করে যে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। শেখ হাসিনা, যিনি এখনও ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন, তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে পদত্যাগ করা পর্যন্ত সেই পদে বহাল ছিলেন।

৩. গোতাবায়া রাজাপাকসে (Gotabaya Rajapaksa): শ্রীলঙ্কা
ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস ধরে চলা প্রতিবাদের মুখে ২০২২ সালের জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে পালিয়ে যান। যদিও প্রায় দুই মাস পরে তিনি দেশে ফেরেন।

অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শ্রীলঙ্কার জনগণ তাঁর পরিবারকে দায়ী করে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক রাজবংশগুলির মধ্যে অন্যতম। এর ফলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। তাঁর ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এবং মন্ত্রিসভার অন্য দুই ভাই ও এক ভাগ্নেকেও পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

৪. ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ (Viktor Yanukovych): ইউক্রেন
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারাত্মক বিক্ষোভের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ রাজধানী কিয়েভ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং পরে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি স্থগিত করে রাশিয়ার কাছ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের দিকে ঝুঁকে পড়লে কিয়েভে প্রতিবাদ শুরু হয়। বিক্ষোভের জেরে পার্লামেন্টের সদস্যরা তাঁকে অভিশংসন করতে ভোট দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

৫. মোয়াম্মার গাদ্দাফি (Moammar Gadhafi): লিবিয়া
আরব বসন্তের অংশ হিসেবে ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় লিবিয়ার নেতা মোয়াম্মার গাদ্দাফি চার দশকের ক্ষমতা হারান। রাজধানী ত্রিপোলি বিদ্রোহীরা দখল করে নিলে তিনি একদল অনুগতদের সঙ্গে নিয়ে পালাতে বাধ্য হন। তিনি নিজ শহর সির্তেতে কয়েক সপ্তাহ লুকিয়ে ছিলেন। ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর পালাতে গিয়ে ন্যাটোর বিমান হামলায় তাঁর কাফেলা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তিনি একটি নর্দমার পাইপে ধরা পড়েন এবং তাঁর মৃত্যু হয়।

৬. মার্ক রাভালোমানানা (Marc Ravalomanana): মাদাগাস্কার
মার্ক রাভালোমানানা ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, কিন্তু তিনি তৎকালীন আন্টানানারিভো-র মেয়র রাজোয়েলিনা-র নেতৃত্বাধীন সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে যান। পরে তাঁকে অনুপস্থিতিতেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।