বিয়ের নামে ম্যাট্রিমনি সাইটে তরুণীর থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা প্রতারণা, মন্দারমণির রিসর্ট থেকে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

ম্যাট্রিমনি সাইটে নিজেকে ‘হাই প্রোফাইল ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে হুগলির এক তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করল হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের সাইবার সেল। অভিযুক্তের নাম জামির আব্বাস (৩৭), বাড়ি হুগলির খানাকুলে। প্রতারক চক্রের মূল অভিযুক্ত জামিরকে মন্দারমণির একটি বিলাসবহুল রিসর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হুগলির কামারকুন্ডুতে সাইবার ক্রাইম থানায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই তথ্য জানান হুগলি গ্রামীণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সরকার।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৬ মে হুগলির সাইবার ক্রাইম থানায় এক তরুণী অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ম্যাট্রিমনি সাইটে ‘অনুপম রায়’ নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর বিবাহের প্রস্তাবের মাধ্যমে দু’জনের সম্পর্ক দৃঢ় হয়। এই সময়ে অভিযুক্ত জামির আব্বাস তার আসল নাম গোপন করে অনলাইনে ‘অনুপম রায়’ পরিচয় দিয়ে তরুণী এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জামির তরুণীকে জানায় যে, জিএসটি (GST) এবং ইনকাম ট্যাক্স সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করে দেওয়া হয়েছে। টাকা দিলে তার সমস্ত অ্যাকাউন্ট খুলে যাবে। এই টোপ দিয়ে অভিযুক্ত ধাপে ধাপে মোট পাঁচটি অ্যাকাউন্ট থেকে তরুণীর পরিবারের ৪৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপরেই সে অনলাইন সাইট থেকে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিয়ে তরুণীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তরুণীর পরিবার গত ৬ মে সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জুলাই মাসে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাদের একজন অভিষেক রায় (বাড়ি ঝাড়খণ্ডের দেওঘর) এবং অন্যজন জাহির আব্বাস (বাড়ি হুগলির খানাকুল)। এরা দু’জনেই প্রধান অভিযুক্ত জামির আব্বাসের ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা চালাত।

দীর্ঘদিন অধরা থাকার পর বুধবার মূল অভিযুক্ত জামিরকে মন্দারমণির রিসর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিবাহের নাম করে একাধিক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তাদের বিশ্বাস অর্জন করত এবং লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করত। পুলিশ এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত এবং কতদিন ধরে এই চক্র সক্রিয় রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখছে। হুগলি জেলায় ম্যাট্রিমনি সাইটের মাধ্যমে এমন প্রতারণা এই প্রথম বলে জানিয়েছে পুলিশ।