ওষুধ দেন স্বয়ং দেবী! ৪০০ বছরের পুরনো মজিলপুরের এই মন্দিরে রোগমুক্ত হন ভক্তরা, কীভাবে যাবেন?

জেলার অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে থাকা বহু সাধনক্ষেত্রের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মজিলপুরের ধন্বন্তরী দেবীর মন্দিরটি এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই মন্দির ভক্তদের কাছে পরিচিত তার নিরাময় ক্ষমতার জন্য।

জনশ্রুতি এবং স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্দিরে দেবী কালীর স্বপ্নাদেশ থেকে পাওয়া ওষুধ বিতরণ করা হয়। এই ওষুধ খেয়ে গ্যাস, অম্বল-সহ বহু ভয়ানক রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন ভক্তরা। এই অলৌকিক রোগ নিরাময়ের ক্ষমতার জন্যই ভক্তরা এই দেবীকে ‘ধন্বন্তরী’ নামে ডাকেন, যেন তিনি স্বর্গের বৈদ্যরাজ ধন্বন্তরীর মতোই রোগ সারিয়ে দিচ্ছেন। পুরোহিত কালিদাস চক্রবর্তীর মতে, প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা নিজেদের অসুখ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এই মন্দিরে ছুটে আসেন।

এই মন্দিরের ইতিহাসের সূত্রপাত রাজা প্রতাপাদিত্য ও সম্রাট জাহাঙ্গিরের বিরোধের সময়কালে। প্রতাপাদিত্যকে বন্দি করার পর তাঁর বন্ধু শঙ্কর চক্রবর্তী বংশরক্ষার জন্য তাঁর পরিবারকে দক্ষিণ যশোহরের অন্তর্গত জয়নগর এলাকায় পাঠিয়ে দেন। সেই সময় এই অঞ্চল ছিল গভীর জঙ্গলে ভরা।

জনশ্রুতি আছে, বর্তমানে যেখানে মন্দিরটি রয়েছে, সেখানে তান্ত্রিক ভৈরবানন্দ কঠোর তপস্যা করতেন। চক্রবর্তীদের পূর্বপুরুষ রাজেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ভৈরবানন্দের সন্ধান পেয়ে তাঁর শিষ্য হন। ভৈরবানন্দ তাঁকে জানান, তিনি স্বপ্নাদেশ থেকে জানতে পেরেছেন যে আদি গঙ্গায় মা রয়েছেন। এরপর বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন আদি গঙ্গা থেকে কালীর কষ্টিপাথরের মূর্তি তুলে এনে একটি পর্ণকুটিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভৈরবানন্দ তখন পুজোর দায়িত্ব রাজেন্দ্রনাথকে দিয়ে অন্যত্র চলে যান। সেই থেকে বংশ পরম্পরায় চক্রবর্তীরা জয়নগরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে এই ধন্বন্তরী কালী মন্দিরে পুজো করে আসছেন। সাধক ভৈরবানন্দ কালীকে আরাধ্যা দেবী হিসেবে সাধনা করেছিলেন বলেই লোকমুখে মায়ের নাম হয়েছে ‘ধন্বন্তরী কালী’।

কীভাবে যাবেন এই জাগ্রত মন্দিরে?

এই জাগ্রত মন্দিরে পৌঁছানো খুব সহজ। জয়নগর-মজিলপুর স্টেশনে নেমে কয়েক পা এগোলেই পিচ রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে কয়েক পা এগোলেই ধন্বন্তরী দেবীর মন্দির। স্টেশন থেকে ভ্যান বা টোটোতেও মন্দিরে যাওয়া যায়।

ভক্ত সমীর ঘুরুই জানান, এই কালী মা খুবই জাগ্রত। ভক্তিভরে ডাকলে মা ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। লোকমুখে ধন্বন্তরী মা হিসাবে পরিচিত এই মন্দিরে অন্যান্য সময় বলিদানের প্রথা না থাকলেও, কালী পুজোর সময় ছাগ বলির প্রথা রয়েছে। কালীপুজো উপলক্ষে এখন জয়নগরের ধন্বন্তরী কালী মাতার মন্দির নতুন করে সেজে উঠছে এবং বিশেষ পুজোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বহু বছর ধরে এটি ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ এবং ব্যাধি নিবারণের জন্য সুপরিচিত।