দ্বীপরাষ্ট্রের কান্ডারি এখন ভারতের উঠোনে: মোদীর ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে কি চিনকে কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত শ্রীলঙ্কা?

দফতরে যোগদানের পর প্রথম ভারত সফরে এলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ড. হারিনি আমারাশূরিয়া। আজ, ১৬ অক্টোবর, তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে কূটনৈতিক বৈঠক সেরে আসার পরই তার এই ভারত সফর, যা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির এই সময়ে শ্রীলঙ্কা-ভারত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা করল।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: মূল আলোচনায় কী?

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী আমারাশূরিয়া তার ভারতীয় সমকক্ষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসবেন। আলোচ্যসূচিতে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক ইস্যু এবং অর্থনৈতিক আদান-প্রদানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে নজর: হিন্দু কলেজে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আমারাশূরিয়ার সফরসূচিতে শিক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi) এবং নীতি আয়োগের (NITI Aayog) মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি তার পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিন্দু কলেজেও (Hindu College) ফিরবেন। এই পদক্ষেপটি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণায় সহযোগিতার উপর তার জোর দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে জোর

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই সফরের গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে থাকা ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই সফরটি ভারত সরকারের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ (প্রতিবেশী প্রথম) এবং ‘মহাসাগর ভিশন’ (MAHASAGAR Vision) নীতির সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নীতিগুলি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভারত সফর নিঃসন্দেহে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।